সাভারে আন্দোলনরত শ্রমিক সুমন মিয়া হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনগুলো। বুধবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পৃথক সমাবেশে এই দাবি জানায় গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও ১২টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারা সমাবেশ থেকে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে দমন-পীড়ন বন্ধ করে সকল গ্রেডে একইহারে মজুরি বৃদ্ধির দাবিও জানান। এছাড়া মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে গাজীপুরে নিজ বাস ভবন থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া শ্রমিকনেতা জিয়াউল কবির খোকনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সকল গ্রেডে একইহারে মজুরি বৃদ্ধির যে দাবি তার যৌক্তিকতা কোনোভাবেই খণ্ডন করা যায় না। বরং মালিক পক্ষের দ্বারা পরিচালিত হয়ে সরকার শ্রমিকদের সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে যে প্রতারণা করেছে তার পরিণতিতেই বর্তমান অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই আন্দোলন দমন করতে শ্রমিকের রক্তে হাত রাঙ্গিয়েছে।
তারা আরও বলেন, গত চার দিন বিভিন্ন গার্মেন্ট শিল্পাঞ্চলে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ ও সন্ত্রাসী হামলায় শত শত শ্রমিককে আহত করা হয়েছে, যাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সাভারে আনলিমা এ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিক সুমন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সংকট সমাধানের পরিবর্তে যদি সরকার শক্তি দিয়ে আন্দোলন দমন করতে চায়, তবে তার পরিণতির দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। অবিলম্বে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে সকল গ্রেডে একইহারে মজুরি বৃদ্ধি এবং নিম্নতম মূল মজুরি ১০ হাজার এবং মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা কার্যকর করতে হবে।
এদিকে ১২টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমাবেশে নেতারা বলেন, সাভারে আন্দোলনরত শ্রমিক সুমন মিয়া হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য বিচার করতে হবে। সুমন হত্যার বিচার না করা হলে, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়াসহ সারাদেশের শ্রমিকরা রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। এজন্য দায়ী থাকবে মালিকপক্ষ এবং সরকার।
অবিলম্বে শ্রমিকদের এই চলমান আন্দোলনকে দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে দাবিয়ে না রেখে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আমরা শ্রমমন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ সভাপতিত্ব করেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার। অন্যদিকে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ. ক. ম. জহিরুল ইসলাম, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তসলিমা আখতার, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ প্রমুখ।








