ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগে সংগঠনটির সভাপতির পদে ভারসাম্য আনার দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয় বলে জানিয়েছেন গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ডাকসুর সভাপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, ডাকসুতে নতুন সম্পাদক পদ সৃষ্টি ও নারী নেতৃত্ব তৈরির দাবি তুলে ধরা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র সংগঠনগুলো ডাকসুর ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও নারী নেতৃত্ব সৃষ্টিতে এ বিষয়ে সম্পাদক পদ তৈরিতে ছাত্র সংগঠনগুলো দাবি জানিয়েছে।’
নির্বাচনে কারা প্রার্থী বা ভোটার হতে পারবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো আরও সুচিন্তিত মতামত দিবে বলে জানিয়েছে। আপাতত এ বিষয়ে আমরা (প্রশাসন) একটা অবস্থানে এসেছি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র, তারাই প্রার্থী এবং ভোটার হতে পারবেন।’
তবে, নিয়মিত ছাত্র বলতে কি বুঝায়? এ সংজ্ঞার বিষয়ে দুই-একটি সংগঠনের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক মিজান। তিনি জানান, এ বিষয়ে সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে একমত হতে হবে।
গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধ পরিকর, সেহেতু কীভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারি, সে লক্ষ্যে গঠিত কমিটি কাজ করছে। এ কমিটিকে দশ কর্মদিবসের মধ্যেই মতবিনিময় সভার প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’
গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়টি লিখিতভাবে কমিটিকে জানাতে ছাত্র সংগঠনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার মধ্যে লিখিতভাবে ছাত্র সংগঠনগুলোকে মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গঠনতন্ত্রের কী কী সংশোধন দরকার সে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দিতে পারবো বলে আশা করছি।’
এরআগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে মতামত গ্রহণের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছিল।








