কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অন্যথায় স্বাস্থ্য খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন। উপজেলা বা দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের বিশেষ আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তারা জানান। তবে সেজন্য অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয় বলে সেটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীসহ দেশের আটটি জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসময় হাসপাতালগুলোতে ৪০ শতাংশ চিকিৎসকই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পর্যায়ে অনুপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬২ শতাংশ। ওইদিন বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। এরপর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেসব চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি বলে দুদক বলেছে, সেটি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের কেউ কেউতো ডেপুটেশনে, প্রশিক্ষণে কিংবা মিটিংসহ অন্যান্য কাজেও থাকতে পারেন।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে কোনও রকম ডেপুটেশন বা অন্যত্র সংযুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। শুধু উচ্চ শিক্ষার জন্য ডেপুটেশন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। নতুন নিয়োগ করা চিকিৎসকদের পদায়নের বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে একটি পদায়ন নীতিমালা ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল জারি করা হয়েছে। ওই নীতিমালায় উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ে দুই বছর চাকরি করার পর পদ শূন্যতার ভিত্তিতে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসকদের পদায়ন এবং উচ্চতর কোর্স করার সুযোগ রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে বা দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধা বা বিশেষ ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অপ্রতুলতার কথা বিবেচনা করে হাওড়, দীপাঞ্চল, উপকূল ও দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে। তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বিভিন্নভাবে শুনেছি। গণমাধ্যমে দেখেছি। দুদক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনও প্রতিবেদন পাইনি। সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিকিৎসকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘এগুলোর কিছু প্রক্রিয়াধীন আছে, কিছু বিবেচনাধীন।’








