ডাকসু নির্বাচনে আচরণবিধির যেসব ধারায় সংশোধন চায় কয়েকটি ছাত্র সংগঠন

সিরাজুল ইসলাম রুবেল, ঢাবি
২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০৮আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:১১

ডাকসু ভবন, (ছবি:সংগৃহীত)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আচরণবিধির কয়েকটি ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের দুই অংশ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফেডারেশন। শনিবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে এসব সুপারিশ জমা দিয়েছে সংগঠনগুলো। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আচরণবিধি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছে আচরণবিধির ‘খসড়া তালিকা’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আচরণ বিধির কোথাও কোনও সংশোধনের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সুপারিশমালা জমা দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, আচরণবিধি সংশোধনের জন্য সুপারিশ জমা দিতে পারে ছাত্রদলও। তবে, তাদের সুপারিশ এখনও প্রক্টর অফিসে জমা পড়েনি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সুপারিশ:

‘আচরণবিধির খসড়াটির ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে ‘প্রতিদিন প্রচার-প্রচারণার সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে’। এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের প্রস্তাব হলো প্রচারণার সময় রাত ১০টার বদলে রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো। কারণ, যেসব শিক্ষার্থী হলে থাকেন বাইরের কাজ শেষে তাদের বেশিরভাগই রাতে ফেরেন। তাই তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য রাত ১০টার বদলে রাত ১২টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোটা জরুরি।

ওই খসড়ার ৫ নং ধারার (ক) ও (খ) উপধারায় বলা হয়েছে-কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে সভা-সমাবেশ এমনকি শোভাযাত্রা করতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দিন, সময়, স্থান উল্লেখ করে লিখিতভাবে অনুমতি নিতে হবে ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে’। এ বিষয়ে বাম ঘরানার ছাত্র সংগঠনটির সুপারিশ হলো সভা-সমাবেশ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই লিখিতভাবে অনুমতি সাপেক্ষে সভা-সমাবেশ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রধান অন্তরায়। এক্ষেত্রে মৌখিকভাবে জানানোর বিষয়টি থাকতে পারে, যাতে দুইটি অনুষ্ঠান একই স্থানে না পড়ে যায়।

আবার ওই ধারাটির (ঘ) উপধারায় বলা হয়েছে ‘প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতীত কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে সংগঠন কোনও জায়গায় সভা-সমাবেশ করতে পারবে না’।

এক্ষেত্রে তাদের সুপারিশ হলো মৌখিকভাবে বলার বিধান থাকাই যুক্তিযুক্ত। কারণ, (ঙ) ও (চ) উপধারায় যা বলা আছে, তারপরও লিখিতভাবে অনুমতির বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের পরিচায়ক।

খসড়া আচরণ বিধির ‘(জ) উপধারায় বলা হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে’। এই বিষয়ে সংগঠনটির মতামত হলো-বাইরে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে থাকেন সন্ধ্যা পর্যন্ত। ফলে তাদের মধ্যে প্রচারণার সময়টা খুবই সীমিত। তাই মাইকে প্রচারণার সময় সকাল ১০টা থেকেই হওয়া বাঞ্ছনীয়।

৬ (ক) উপধারার ক্ষেত্রে তাদের মতামত হচ্ছে পোস্টার ও হ্যান্ডবিল, লিফলেটের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে। (হ্যান্ডবিল ৩৫ হাজার এবং পোস্টার ৫ হাজার কপি হতে পারে।)

খসড়া আচরণবিধির ৭ নং ধারার (ক) উপধারায় বলা আছে ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও শিক্ষার্থী/সংগঠন কোনও প্রতিষ্ঠানে চাঁদা অনুদান ইত্যাদি লেনদেন করতে পারবে না’। এই উপধারা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট: বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কোনও বৃহৎ আন্দোলনই জনগণের আর্থিক ভিত্তিকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী/ সংগঠন তাদের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্যে কোনও প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেনের বিষয়টি ছাত্রস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। কিন্তু আন্দোলনের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত হয়ে যদি কেউ সহযোগিতা করতে চান, সেক্ষেত্রে এই বিধানটি তার ক্ষেত্রে অন্তরায়। আন্দোলনের ভিত্তিই তো সকলের অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা। এজন্য সংগঠনটি আহ্বান জানিয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধিতে গণচাঁদার বিষয়টি যুক্ত করা।

৮ (ক) উপধারায় নির্বাচনি প্রচারণায় থাকাকালে কী আচরণ হবে এবং কোনও প্রকার উস্কানিমূলক আচরণ/বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এবং ৮ নং ধারার পরের উপধারাগুলোতে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই ধারা সম্পর্কে তাদের মতামত হলো সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক গঠনমূলক সমালোচনার বিধি প্রয়োজনীয়। নতুবা যে কোনও কথাকেই ‘কোট’ (উদ্ধৃত) করে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করার ফাঁক থেকে যায়। ৫ (চ) উপধারার শেষ লাইনে বলা হয়েছে, ‘ক্লাসরুমের ভেতরে ও করিডোরে মিছিল করা যাবে না’। এটি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রত্যক্ষ ছাত্রসংযোগের পরিপন্থী। কেননা, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত যে কোনও বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত বিনিময়ের জন্য ‘ক্লাস ক্যাম্পেইন’ একটি প্রচলিত ও সর্বজনস্বীকৃত কার্যক্রম। ফলে ক্লাসরুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতামত বিনিময়ের সুযোগ (ক্লাস ক্যাম্পেইন) যেমন থাকতে হবে, একইসঙ্গে বক্তব্য প্রচারের জন্য করিডোরে মিছিলের মতো প্রচলিত ও সর্বজনস্বীকৃত কার্যক্রমকে ‘নির্বাচনি আচরণবিধি’তে যুক্ত করতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়নের সুপারিশমালা :

ছাত্র ইউনিয়ন খসড়া সুপারিশমালার ৪ এর (গ) ধারা সংশোধন করে ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দদের প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করার সুযোগ। ৫ এর (গ) ধারাটিও সংশোধন চায় সংগঠনটি। এর বদলে প্যানেল পরিচিতি সভা প্রশাসনের উদ্যোগে করার সুপারিশ করেছে তারা। এছাড়াও ৬ (গ) ধারাটি সংশোধন করে দেয়ালে কোনও প্রচারণা না চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী দেয়াল লিখন মুছে দেওয়া, ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং গণমাধ্যমের কর্মী এবং কোনও প্রার্থী সিসিটিভির ফুটেজ নিতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তা দিতে বাধ্য থাকার প্রস্তাবও আছে ছাত্র ইউনিয়নের আচরণবিধি সংস্কার প্রস্তাবে। 

ছাত্র ফেডারেশনের দেওয়া সুপারিশ:  

আচরণবিধির ৪ (গ) ধারাটি সংশোধন করে কোনও ব্যক্তির খ্যাতির মানদণ্ড সুনির্দিষ্ট করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন। এছাড়াও ৫ (গ) ধারাটি সংশোধন করে একজন প্রার্থী বা একটি প্যানেলের পক্ষে প্রতিটি হলে ১ টির পরিবর্তে ৩টি ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ৩টির বদলে ৫টি প্রজেকশন মিটিং করার অনুমতি চেয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে কোনোরূপ বাধা না দিয়ে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের ছবি তোলা ও ভিডিও করার ব্যবস্থা থাকার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এছাড়াও প্রত্যেক প্রার্থী নির্বাচনের ব্যয়সীমা নির্দিষ্ট করা, রঙিন পোস্টার না করা, নির্বাচনি ক্যাম্প না বসানো, আলোকসজ্জা না করা, ভোটার স্লিপ শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রেখেছে তারা।

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম