সরিয়ে ফেলা হবে হাজারীবাগের দূষিত মাটি

শাহেদ শফিক
৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৩১আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:১০




ভূমি শোধন প্রক্রিয়া ট্যানারি শিল্পের কারণে রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার মাটি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। এক সময় ওই এলাকার ট্যানারিশিল্পের বর্জ্যের কারণে মাটিতে মিশেছে ক্রোমিয়াম, লেড ও আর্সেনিকের মতো ভারী ও বিষাক্ত ধাতু। অবস্থানভেদে মাটির গভীরে এ দূষণের মাত্রা ৮ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানি ক্রমান্বয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। দূষিত মাটি গাছপালার পাশাপাশি এলাকার বহুতল ভবনের জন্যও হমকি হয়ে উঠেছে। অবস্থার উন্নয়নে রাজউকের পক্ষ থেকে হাজারীবাগ এলাকার মাটি সরিয়ে নতুন মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দূষিত মাটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে সরিয়ে ফেলা হবে।   

রাজউকের তথ্য মতে, হাজারীবাগে দেশের সবচেয়ে বড় ট্যানারি এলাকা হওয়া সত্বেও এতে কোনও ইটিপি বা সিইটিপি স্থাপনা করা হয়নি। যে কারণে ট্যানারিগুলো থেকে নির্গত দূষিত পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য খোলা ড্রেনের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়তো। এর ফলে এলাকার মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়ে পড়ে।

রাজউকের পরিসংখ্যান বলছে, হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো থেকে প্রতিদিন ৭৫ মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য ও ২১ হাজার ৬০০ ঘনমিটার তরল বর্জ্য কোনোরূপ পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি খোলা ড্রেন দিয়ে মাটি, পানি ও নদীতে গিয়ে পড়তো। এতে পুরো এলাকায় দূষণ ছড়িয়ে পড়ে।

ভূমি শোধন প্রক্রিয়ায় কমবে মাটি ও পানির বিষাক্ততা
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্জ্যের সঙ্গে মাটিতে গিয়ে মেশা ক্রোমিয়াম ধাতু মাটি ও পরিবেশের জন্য একটি ধীরগতির বিষ। যা কখনো ধ্বংস হয় না বরং ধীরে ধীরে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাটির সঙ্গে মিশে থাকে। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর করা হলেও হাজারীবাগের মাটি ও পানিতে ক্রোমিয়াম থেকে গেছে। ফলে এর দ্বারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ অবস্থায় জাপান ও সিঙ্গাপুরের আদলে হাজারীবাগ এলাকার ভূমির উন্নয়ন করতে চায় রাজউক। প্রকল্পের আওতায় হাজারীবাগের ৮ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি অপসারণ করে বিশুদ্ধ মাটি দিয়ে ভরাট করা হবে। যাতে দূষিত মাটি নতুন প্রকল্প এলাকা ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ক্ষতি করতে না পারে। এ জন্য এলাকার স্থানীয় ভূমি মালিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলাপ আলোচনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভূমি মালিকরা ইতিবাচক সড়াও দিয়েছেন।

হাজারীবাগের উন্নয়নের জন্য তিনটি পদ্ধতিকে বাচাই করেছে রাজউক। এগুলো হচ্ছে- ভূমি মালিক সমিতির নিজস্ব উদ্যোগ, ভূমি মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপার কোম্পানির চুক্তি ও ভূমি মালিক সমিতির সঙ্গে রাজউকের চুক্তি। ভূমি মালিকরা সম্মত হলে এ তিনটি পদ্ধতির যে কোনও একটির মাধ্যমে হাজারীবাগের উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ঋণ দাতা সংস্থা বা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করতে আগ্রহী রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

হাজারীবাগ রিডেভেলপমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী রাজউক সবুজ প্রকৃতি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, মিশ্র ভূমির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। এর জন্য বর্তমানে থাকা ৮৭৪টি ভবনকে ভেঙে পুরো এলাকায় বহুতল ভবনসহ ৪০-৪৫টি আবাসিক ভবন নির্মাণ, মসজিদ, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, ট্যানারি ক্লিনিক লাইব্রেরি, হাসপাতাল, কাঁচাবাজার, প্রাথমিক-মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার, শপিং সেন্টার ও ক্লাব স্থাপন এবং খালের পাশ দিয়ে হাঁটার পথ ও পাবলিক স্পেস রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

ভূমি উন্নয়নের পর হাজারীবাগ এলাকার চিত্র এছাড়া আবাসকি ভবনের উপর ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার মেগা প্ল্যান্ট, ভবনের উপর বৃষ্টির পানি ধারণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা, লেক ও জলাশয়কে কেন্দ্র করে পার্ক নির্মাণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য খোলা জায়গা রাখা ও বায়ুশোধনের জন্য উপযোগী গাছ লাগানো হবে। প্রকল্প এলাকায় একটি মাল্টি পারপাস কমপ্লেক্স থাকবে যাতে একই ভবনে নাগরিকরা কাউন্সিলর অফিস, ক্লিনিক, কমিউনিটি সেন্টার ও সুইমিংপুলসহ অন্যান্য সুবিধা পায়।

রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হাজারীবাগের উন্নয়নের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সম্ভাব্য নকশা তৈরি করা হচ্ছে। এই সম্ভাব্য নকশায় বিশেষজ্ঞ ও ট্যানারি মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের প্রতিফলন থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভূমি মালিকরা বর্তমান সম্পত্তির সমমূল্যের আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্পেস পাবেন। এছাড়া কমিউনিটি স্পেসগুলোর সমন্বিত মালিকানা ও ফ্ল্যাট মালিকদের মধ্যে এসোসিয়েশন দ্বারা ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করা হব। পাশাপাশি বর্তমান বাজার মূল্যে সম্পত্তির বিদ্যমান মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তার বহুল জনবসতিপূর্ণ এলাকা আরবান রিডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বা ভূমি পুনঃউন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন করে সফল হয়েছে। আমরাও ঢাকার বোঝা হাজারীবাগকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে চাই। এ লক্ষ্যে হাজারীবাগ এলাকার দূষিত মাটি সাধারণ জনবসতি এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি না হয়। 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম