রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় পলাতক দুই জঙ্গি মামুনুর রশিদ রিপন ও শরীফুল ইসলাম খালিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট-সিটিটিসি। এজন্য রূপনগর থানার একটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে রিপন ও খালিদের কাছ থেকে নতুন কোনও তথ্য পেলে গুলশান হামলা মামলায় সম্পূরক চার্জশিট দেবে তদন্ত সংস্থা সিটিটিসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সিটিটিসির উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা রিপন ও খালিদকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেছি। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে যদি তাদের কাছ থেকে নতুন কোনও তথ্য পাওয়া যায় তাহলে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত শেষে গত বছরের ২২ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেয় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। হামলায় মোট ২১ জনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে চার্জশিটে মামুনুর রশিদ রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালিদকে পলাতক দেখানো হয়।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি এলিট ফোর্স র্যাব হলি আর্টিজান হামলা মামলার পলাতক দুই জঙ্গিকে পৃথক অভিযানে ঢাকা ও চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে দুজনকেই খিলগাঁও থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল র্যাব। র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামুনুর রশিদ রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালিদ নতুন করে নব্য জেএমবিকে সংগঠিত করতে কাজ করছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় অর্থের যোগান দেওয়ার পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য দিয়েছে।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা তদন্তে পরিকল্পনা ও হামলাকারী (জঙ্গি) সরবরাহকারী হিসেবে নাম এসেছিল নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা মামুনুর রশীদ রিপনের। এক সময় পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা ছিল রিপন। বাংলাদেশে এসে তামিম চৌধুরী যে কয়জনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে নব্য জেএমবি গঠন করে, রিপন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল। রিপন এক সময় উত্তরবঙ্গের সামরিক কমান্ডার হিসেবেও কাজ করতো। গুলশান হামলায় জড়িত থাকার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে একাধিক হত্যার সঙ্গেও জড়িত সে। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রাম থানার চৌদীঘির মারিয়া এলাকায়। তার বাবার নাম নাছের উদ্দিন। গুলশান হামলার পর থেকেই রিপন পলাতক ছিল।
সূত্র জানায়,রিপনের মতো খালিদও হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনায় সহযোগিতা, বাস্তবায়ন ও হামলাকারী সরবরাহে ভূমিকা রেখেছিল বলে তদন্তে প্রমাণ পেয়েছিলেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। খালিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীর সঙ্গে প্রথম থেকেই যোগাযোগ ছিল তার। রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার শ্রীপুর এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি। তার বাবার নাম আব্দুল হাকিম। গুলশান হামলার পর থেকে সেও পলাতক ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রিপন ও খালিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুলশান হামলা সম্পর্কে কিছু নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হামলার আগের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড এবং পাশের দেশ থেকে অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহ করার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থান করে তারা কিভাবে অর্থের যোগান দিয়েছিল, সে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হতে পারে।








