বাড়ির প্রবেশ পথে কলাগাছ রোপণকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের বাড়তিপাড়া বড়ইর চর গ্রামের আনিস মিয়া হত্যা মামলার আসামি তার চাচা হুরমুজ আলী ও তার ছেলে আবু হানিফ এবং জবান আলীকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এ মামলার অন্য আসামি মমরোজ আলীকে দেওয়া বিচারিক আদালতের এক বছরের কারাদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছেন আদালত।
আসামিদের মধ্যে হুরমুজ আলী বর্তমানে কারাগারে আছেন। আর অন্য আসামিরা জামিনে আছেন।
আনিছ হত্যা মামলায় আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান রাহি।
পরে অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান রাহি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হুরমুজ আলীর বাড়ির প্রবেশ পথে তার ভাতিজা আনিস মিয়া কয়েকবার কলাগাছের চারা রোপণ করলে তা উপড়ে ফেলা হয়। কিন্তু বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় আনিস মিয়া তার চাচা হুরমুজ আলী ও তার ছেলেদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাধে জড়িয়ে পড়েন। এর এক পর্যায়ে হুরমুজ আলী বল্লম দিয়ে আনিসকে আঘাত করেন। পরে ওই আঘাতেই আনিস মিয়া মারা যান।’
এরপর ২০০৮ সালের ২১ মার্চ আনিছের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালের ২৬ আগস্ট ময়মনসিংহের বিশেষ জজ আদালত হুরমুজ আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার ছেলে মমরোজ আলী, আবু হানিফ এবং জবান আলীকে এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন।
পরে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্ট এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান রাহি আরও বলেন, ‘এই হত্যার ঘটনা ইচ্ছে করে ঘটেনি। দুই পক্ষের বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছিল। তাই বল্লম দিয়ে আঘাতের অপরাধে হাইকোর্ট হুরমুজ আলীর বিগত সাড়ে ১০ বছরের সাজা দণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে তাকে খালাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে মমরোজ আলীকে বিচারিক আদালতের দেওয়া এক বছরের সাজা বহাল রেখেছেন। আর মামলার অন্য দুই আসামি আবু হানিফা ও জবান আলীকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।








