রেলওয়ে পোষ্যদের যোগ্যতা অনুসারে আনুপাতিক হারে নিয়োগ ও পোষ্য কোটা নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করাসহ পাঁচ দফ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও আমরণ অনশন পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি। বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তোপখানা রোডের সাংবাদিক নির্মল সেন মিলনায়তনে সাংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচীর ঘোষণা দেন সোসাইটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান।
লিখিত বক্তব্যে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্রিটিশ ভারতে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী পরিবারের একজনকে পোষ্য হিসেবে বাধ্যতামূলক চাকরি দেওয়ার নিয়ম ছিল। বাংলাদেশে সে নিয়ম বাতিল করে পোষ্য কোটা ৪০ শতাংশ করা হয়। দুঃখের বিষয় সে কোটার নিয়মও মানা হয়নি। সে কোটাও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। শ্রমিক-কর্মচারীদের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাওয়া অসম্ভব। পোষ্যরা শিক্ষিত হলেও চাকরির অভাবে বেকারত্বের অভিশাপ বহন করে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’
রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়েতে কোটা ব্যবস্থা কার্যকর করে চাকরির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও দুঃখজনক যে, অনেক পোষ্য একাধিকবার পরীক্ষা দিলেও তারা ন্যায্য কোটা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’
পাঁচ দফা দাবি হলো- রেলওয়ে পোষ্যদের যোগ্যতা অনুসারে আনুপাতিক হারে নিয়োগ, পোষ্য কোটা নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করা, অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী শ্রমিক-কর্মচারীর একজন পোষ্যকে বাধ্যতামূলক নিয়োগ দেওয়া, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে নিয়োগপ্রাপ্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি কর্তৃক তদন্ত করা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডের ৪০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল করা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, পাঁচ দফা দাবি আদায়ে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে। এতে দাবি পুরণ না হলে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি আবারও মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে। তারপরও যদি দাবি আদায় না হয়, তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচী পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক আলমগীর হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হাসিনা বানু প্রমুখ।








