প্রথম দফা অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসার মাঝপথেই হাসপাতাল ছেড়েছিলেন বৃক্ষমানব খ্যাত আবুল বাজানদার। গত জানুয়ারি মাসে হাত ও পায়ের সমস্যা নিয়ে আবারও হাসপাতালে ফেরেন তিনি। তবে কোনও ধরনের চিকিৎসা না নিয়েই গত বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি ফিরে যান আবুল। শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডা. সামন্তলাল সেন শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বুধবার আবুল বাজানদার হাসপাতাল ছেড়েছেন। তিনি এখন বাড়ি চলে গেছেন। যাওয়ার আগে লিখে দিয়ে গেছেন, আবার পনের দিন পরে আসবেন।’
তিনি আরও বলেন, হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসার মাঝপথেই আবুল হাসপাতাল ছেড়েছিলেন। আট মাস বাড়িতে সময় কাটিয়ে গত ২০ জানুয়ারি তিনি হাত ও পায়ে শিকড়ের মতো বাড়তি অংশ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এরপর চিকিৎসকরা তার অপারেশন করাতে চাইলে তিনি রাজি হননি।
ডা. সামন্তলাল বলেন, ‘এবার আবুল কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাননি। তার কোনও অপারেশনও হয়নি। রোগী যদি হাসপাতাল থেকে বারবার চলে যায় তাহলে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।’
আবুল বাজানদার হাসপাতালে আসার পর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, তিনি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে চান। এর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে আবুল বাজানদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হাত-পায়ে গাছের শিকড়ের মতো শক্ত অতিরিক্ত অংশ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপর তার চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশ দেন আবুলের সব খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করার। থাকা-খাওয়া, ওষুধ, অপারেশন কোনো কিছুর জন্যই আবুলকে অর্থ দিতে হয়নি। সব খরচ বহন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একসময় প্রায় সুস্থ মানুষের মতো হয়ে ওঠেন তিনি। পরে চিকিৎসা শেষ না করেই ২৬ মে হাসপাতাল ছাড়েন আবুল বাজানদার।








