রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলা: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ভিকটিম

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৩আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৮





বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে দুই তরুণী ধর্ষণের মামলার পাঁচ আসামি বনানী রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় আদালতের নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ভিকটিম। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এ মামলায় সাক্ষী দিতে আদালতে হাজির হয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সিকিউরিটি কে দেবে? আসামিরা জামিন নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। তারা হসপিটালের কথা বলে জামিন নেয়। তারা তো হসপিটালে থাকে না। হসপিটালের বাইরেও থাকে।’
ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বনানী রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষী দিতে এসে ভিকটিম আসামিদের জামিন পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো এক জায়গায় চাকরি করি। ওইখান থেকে তো বারবার ছুটি নিয়ে আসতে পারি না। আর এ বিষয়টা তো অফিসে বলাও যায় না।’
এদিন মামলার সাক্ষীর তথা ভিকটিমের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামি সাফাত আহমেদের জামিন বাতিলের আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। সাক্ষ্য দেওয়া শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা ভিকটিমকে জেরা করেন। আসামি পক্ষের জেরা শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস পরবর্তী তারিখ ৬ মার্চ দিন ধার্য করেন।
আসামি সাফাত আহমেদের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম লিটন তার মক্কেলের জামিন স্থায়ী করার আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিন নামঞ্জুরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে বলা হয়েছে মামলার বাদী বা ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তা মোটেও সত্য নয়।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও বাদীর আইনজীবী ফারুক আহমেদ জামিন স্থায়ীকরণের আবেদনের বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, আসামি সাফাত আহমেদ অসুস্থ ছিল বলে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। সে এখন সুস্থ। কারাগারে নিয়ে যাওয়ার অবস্থাও আছে সে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাফাতের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৯ নভেম্বর ধর্ষণে অভিযুক্ত আসামি সাফাত আহমেদের জামিন দেন একই ট্রাইব্যুনাল। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন করেন।
এদিন কারাগারে থাকা মামলার অন্য আসামি নাঈম আশরাফের পক্ষে আইনজীবী মাসুদ রানা মো. হাফিজ জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামি দীর্ঘ দুই বছর কারাগারে আছে। মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছে।
আদালত শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এ মামলায় ২০১৭ সালের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগপত্রে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।
অপর তিন আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে একই আইনের ৩০ ধারায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে তাদের ভয়-ভীতি দেখায় ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। বাদী ও তার বান্ধবীকে সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।

আরও পড়ুন: রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত কারাগারে


/টিএইচ/এইচআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম