রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন ট্রাইব্যুনালে কোনও সাক্ষী হাজির না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সময়ের আবেদন করেন। এরপর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এপর্যন্ত এ মামলায় ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন ট্রাইবুনাল।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরও আগে ৮ আগস্ট ৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ৩০ জুলাই মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য দিন ধার্য করা হয়। ৭ আগস্ট ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি পৌঁছায়।
অভিযোগপত্রে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
অভিযোগপত্রের ৮ আসামি হলো, হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, এই ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। এর মধ্যে পলাতক মামুনুর রশিদ। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি সাত জন আসামি কারাগারে।
ঘটনাস্থলে মামলার ৫ আসামি নিহত হয়। তারা হলো, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো, তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্যও নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।








