ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধিতে কী আছে?

ঢাবি প্রতিনিধি
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:১২আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৩

ডাকসু (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারদের যেসব বিষয় মেনে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে তা স্পষ্ট করে বলা আছে আচরণ বিধিতে। নির্বাচনে যানবাহনের ব্যবহার, প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ, নির্বাচনি সভা, সমাবেশ ও শোভাযাত্রার নিয়ম; পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও দেয়াল লিখনের প্রসঙ্গ এবং ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের নিয়মের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া আছে আচরণ বিধিতে।

নির্বাচনে যানবাহন ব্যবহার সংক্রান্ত:

কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমাদান, প্রত্যাহার বা প্রচারণায় কোনও ধরনের যানবাহন নিয়ে  শোভাযাত্রা, শোডাউন বা মিছিল করা যাবে না।

নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে বা ভোটকেন্দ্র হতে ভোটারদের আনা-নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন [৩(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী] ব্যবহার করা যাবে না।

নির্বাচনের দিন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার সুবিধার্থে শুধু রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অনুমোদিত যানবাহন নির্বাচনি এলাকায় চলাচল করতে পারবে।

নির্বাচনের দিন প্রার্থী, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে বাইসাইকেল ও রিকশা ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে:

নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনের ২৪ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন। প্রতিদিন প্রচারণার সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।

ডাকসু ও হল সংসদনির্বাচনের ভোটার ও প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই কোনও প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

নির্বাচনি সভা, সমাবেশ ও শোভাযাত্রার ক্ষেত্রে:

কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনও সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা করতে চাইলে দিন, সময় ও স্থান উল্লেখ করে চিফ রিটার্নিং অফিসার বা সংশ্লিষ্ট হলের রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। কর্মসূচির অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অনুমতি নিতে হবে।

একজন প্রার্থী বা একটি প্যানেলের পক্ষে প্রতিটি হলে একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি প্রজেকশন মিটিং করা যাবে। কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনও ছাত্র সংগঠন হলের অভ্যন্তরে বা ক্যাম্পাসে চিফ রিটার্নিং অফিসার বা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অনুমোদিত স্থান ছাড়া কোনও সভা, সমাবেশ বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় জনগণ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন সড়কে জনসভা, পথসভা, সমাবেশ এমনকি কোনও মঞ্চ তৈরি করা যাবে না।

পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এমন কোনও স্থানে (যেমন-শ্রেণিকক্ষ, পাঠকক্ষ, পরীক্ষার হল ইত্যাদি) সভা, সমাবেশ বা নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ও করিডোরে মিছিল করা যাবে না।

কোনও ধর্মীয় উপাসনালয়ে (যেমন-মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি) কোনও প্রকার নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় সভা, সমাবেশে ও অডিটোরিয়ামে মাইক ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনোক্রমেই রাত ১১টার পরে মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

প্রতিপক্ষের সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা এবং অন্যান্য প্রচারাভিযান ব্যাহত বা পণ্ড হতে পারে বা গোলযোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।

কোনও সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা বা নির্বাচনি প্রচার কাজে বাঁধাদানকারী বা গোলযোগ সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে রিটার্নিং অফিসার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও দেয়াল লিখনের বিষয়ে যা বলা আছে:

নির্বাচনি প্রচারণায় লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ছাপানো ও বিলি করা যাবে। তবে কোনও প্রার্থী নিজের সাদাকালো ছবি ব্যতীত লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল এলাকায় অবস্থিত কোনও স্থাপনা, দেয়াল, যানবাহন, বেড়া, গাছপালা, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি বা অন্য কোনও দণ্ডায়মান বস্তুতে লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না।

কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের ক্ষতিসাধন করা যাবে না।

কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনও ছাত্র সংগঠন, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনও কালি বা চুন বা কেমিক্যাল দ্বারা দেয়াল বা যানবাহনে কোনও লিখন, মুদ্রণ, ছাপচিত্র বা চিত্রাঙ্কন করে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না।

উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মধ্যে কী পড়ে:

নির্বাচনি প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত চরিত্র বা সংগঠনকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান, গুজব ছড়ানো বা কোনও ধরনের তিক্ত বা উস্কানিমূলক বা মানহানিকর কিংবা লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনও বক্তব্য প্রদান করা বা গণমাধ্যম কিংবা সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা যাবে না।

উচ্ছৃঙ্খল, শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও শান্তি বিনষ্টকারী আচরণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনও ব্যক্তি কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা ভোটারকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ ও ভোটদানে বাধাগ্রস্ত করতে পারবেন না।

হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে:

নির্বাচনি প্রচারণার উদ্দেশ্যে ছেলে প্রার্থী বা শিক্ষার্থীরা মেয়েদের হলে এবং মেয়ে প্রার্থ বা শিক্ষার্থীরা ছেলেদের হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে শুধুমাত্র প্রজেকশন সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হলের নিয়মাবলী অনুসরণে হল রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যতিক্রম হতে পারে।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার:

ভোটাররা নিজ নিজ হলের বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করবেন। নির্বাচনি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করবেন। চিফ রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট হলের রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে গণমাধ্যমকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ছবি তুলতে পারবেন। তবে ভোটকেন্দ্রের বুথগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্র থেকে কোনও ধরনের লাইভ সম্প্রচারসহ ভোটকার্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমন কোনও কাজ করতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ রাখতে হবে, বুথের ভেতরে কোনোভাবেই এ ধরনের কোনও ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না বা কোনও ছবি তোলা যাবে না।

বহিরাগত প্রবেশে বিধিনিষেধ:

নির্বাচনের দিনে ভোটার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া ক্যাম্পাসে অন্য সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

ভোটার স্লিপ প্রদান:

কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনও শিক্ষার্থী/ভোটার নির্বাচনের দিন ভোটার স্লিপ প্রদান করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, ভোটকেন্দ্র্রের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে না।

নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন:

নির্বাচনি আচরণ বিধি ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি ও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজনবোধে স্বপ্রণোদিতভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারবেন। কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অথবা রাষ্ট্রীয়/বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অন্য যে কোনও দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এটি ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার দিন হতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি