সাত বছর আগে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের মামলায় ২০ দিন কারাগারে ছিল বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদ ওরফে মাহাদী। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র্যাবের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে পলাশ ওরফে মাহাদীর নামে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৪। ওই বছরের ২৮ মার্চ র্যাব তাকে গ্রেফতারের পর অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় নেমরা মারমা নামে পলাশের এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া ) মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আমরা তার প্রিভিয়াস ক্রিমিনাল রেকর্ড খতিয়ে দেখছি।’ র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, অপহরণের ওই ঘটনায় পলাশ আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে ভিকটিমের পরিবার তখন অভিযোগ করে। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার এবং এক সহযোগীসহ পলাশকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক মেয়ের সঙ্গে পলাশের ভালোবাসা ছিল। ওই মেয়ের বাবা মামলা করেছিল। সেই মামলায় পলাশ ২০ দিন কারাগারে ছিল। পরে জামিন করাই।’ পলাশের বাবা বলেন, ‘আমার একটাই ছেলে। আমরা ওই মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি ছিলাম। কিন্তু মেয়ের বাবা রাজি হয় নাই। পরে আপসের মাধ্যমে তারা মামলাটা তুলে নিছে।’
প্রসঙ্গত,রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৭ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বলা হয়, ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পরই বিমানটি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। পরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে। ফ্লাইটে ১৩৪ জন যাত্রী ও ১৪ জন ক্রু ছিলেন। পরে কমান্ডো অভিযানে সন্দেহভাজন বিমান ‘ছিনতাইকারী’ মাহাদী নিহত হয়। বিমানে থাকা যাত্রীরা অভিযানের আগেই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুন:
মাহাদীর লাশ নিতে চান না বাবা পিয়ার সর্দার
মাহাদীকে নিয়ে যা বললেন তার বাবা
মাহাদীর নাম রয়েছে র্যাবের ক্রিমিনাল ডাটাবেজে?








