পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপক পরিচিত আইস বা মেথ নামের ভয়ানক মাদকের সন্ধান মিলেছে ঢাকায়। রাজধানীর ঝিকাতলার একটি বাড়ি থেকে আইস তৈরির একটি ল্যাবেরও সন্ধান পেয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের অধিদফতর। এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি জানান,গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য অধিদফতরের একটি চৌকসদল মোহাম্মদপুরে আইস বা মেথ নামক মাদক সরবরাহ ও তৈরির খবর পায়। এরপর মঙ্গলবার বিকালে মোহাম্মদপুর থেকে আইস পিলসহ রাকিব উদ্দিন নামে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর ঝিকাতলা থেকে আইস পিল তৈরির কারখানাটি পায় অধিদফতরের কর্মকর্তারা।
ঝিকাতলার ৭/এ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর বাসার বেজমেন্টে আইস পিল তৈরির একটি ল্যাব পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। সেখানে আইস ও এমডিএমএ (এক্সাটাসি) সহ সিউডোফিড্রিন এক্সট্রাকশন সুবিধা সম্মলিত অত্যাধুনিক ডিস্টিলেশন চেম্বার সজ্জিত ছিল বলেও জানান ডিজি। এই ল্যাবে আইস নামক মাদক তৈরি করা হতো। তবে ল্যাবের মালিক ও আইস তৈরির মূলহোতা হাসিব মোহাম্মদ রশিদ (৩২) কে গ্রেফতার করতে পারেনি কর্মকর্তারা। বাড়িটির কেয়ারটেকার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করা হয়েছে।
ডিজি বলেন,এই আইস ও এমডিএমএ নামক মাদক বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয়েছে। অন্যান্য মাদক দুর্লভ হয়ে যাওয়ার কারণে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা এসব মাদকের দিকে এখন ঝুঁকছে। এসব আইস পিল বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করেছিল এই চক্রটি। এই মাদকের অনেক দাম। মঙ্গলবার এর বিপুল পরিমাণ কাঁচামালসহ মাদক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ ও কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
এই মাদক শনাক্তে কাজ করা একজন সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রায় দু’মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে রাজধানীর ঝিকাতলার একটি বাড়ির সন্ধান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। মাদক তৈরির মূলহোতা হাসিব মালয়শিয়ায় পড়ালেখা করতো। সেখান থেকে আসার পর মাদকাসক্তির কারণে তাকে রিহ্যাবেও দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সংশোধন হয়নি।উল্টো নিজের বাড়ির বেইজমেন্টেই গড়ে তোলে মাদক তৈরির কারখানা। সেখানে নিয়মিত তরুণ-তরুণদের আড্ডাও হতো।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম জানান,ওই কারখানা থেকে রাসায়নিকসহ বিভিন্ন কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। হাসিবই দেশে প্রথম আইস নামের এই ভয়ানক মাদকদ্রব্য তৈরি ও বাজারজাত করেছে বলেও জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এই সহকারী পরিচালক।
আইস মূলত মানুষের শরীরে অতিমাত্রায় উন্মাদনা ও উত্তেজনা ছড়ায়। খুব ব্যয়বহুল হওয়ায় উচ্চবিত্ত শ্রেণির লোকজনরাই তা গ্রহণ করে থাকে। বিভিন্ন ওষুধ থেকে এর কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়।








