ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খান বলেছেন, ‘এই নির্বাচনটি হওয়ার কথা ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে। স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষ মনে করে, নগরপিতার কাছে কাজ উদ্ধার হবে। তখন নির্বাচন হলে এক মাস পরে সরকার বদলাতেও পারে– এরকম চিন্তা থেকে প্রতিযোগিতা হতেও পারতো। কিন্তু পরে যখন আর প্রতিযোগিতাটি থাকে না, তখন মানুষ ধরে নেয় যে, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকেই ভোট দিই। তিনি সরকারের কাছ থেকে আমাদের কিছু এনে দিতে পারবেন। তাই আগেই ধরে নেওয়া যে, আতিকুল ইসলামই মেয়র হবেন।’
দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘আলোচনায় সিটি নির্বাচন’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) বিকালে শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন।
মুনিরা খান বলেন, ‘আমাদের চিন্তা করতে হবে, সবাই কেন মেয়র নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না। আমি মনে করি, এই নির্বাচন প্রথমবার স্থগিত হওয়ার আগে আতিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার পরই সবাই জানে– মেয়র কে হবেন? সেজন্য প্রথম ধাপে লোকের আগ্রহ কমে গেল। আমরা সবাই জানি, কী হবে। তাই কষ্ট করে ভোট দিতে যাবো কেন? আমি ভোটারদের অনেক দোষ দেবো। কারণ, আমার ভোটাধিকারই আমার শক্তি। আমি সেই শক্তিটি দেখাচ্ছি না। কারণ যেটাই থাকুক না কেন, ভোটারদের উচিত ছিল কেন্দ্রে যাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে কেন আগ্রহ নেই সেটি ভোটাররা জানেন। আমার ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলেও বলে দেবে। মোটামুটি যেকোনও মানুষকে জিজ্ঞেস করলেই বলে দেবে। একটা মানুষ কেন ভোট দিতে আসবে– এটি চিন্তা করতে হবে। মেয়র নির্বাচন শহরবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। জাতীয় নির্বাচনের পরে আমরা ফেলনা ইলেকশন করে ফেলতে পারি না।’
সাংবাদিক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় আজকের বৈঠকিতে আরও অংশ নিচ্ছেন– সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভির বার্তা বিভাগের সম্পাদক সুকান্ত গুপ্ত অলক, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার এবং বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণা বিভাগের প্রধান শেরিফ আল সায়ার।
রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা যাচ্ছে এ আয়োজন।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম








