‘ভুল’ আসামি জাহালমের বিরুদ্ধে দাখিল করা ২৬ মামলার যাবতীয় নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এসব নথি হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৬ মার্চ) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর ভুক্তভোগী জাহালমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে ২৬ মামলায় অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও সাত মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায়— ওইসব মামলা থেকে তার অব্যাহতির বিষয়ে কোনও আদেশ দেননি আদালত। ফলে কারামুক্তি পান জাহালম।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি ২৬ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে থাকার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চার জনকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী, স্বরাষ্ট্র সচিবের একজন প্রতিনিধি ও আইন সচিবের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এবিষয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর স্বপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
ওই প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপনের পর স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা দায়ের করে দুদক। এই অভিযোগে দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার কথা জানিয়ে চিঠি যায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়। চিঠি পেয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে জাহালম জানান, তিনি মামলার আসামি সালেক নন, তার নাম জাহালম। এ সময় জাহালম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সেদিন নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালমের কথা কেউ বিশ্বাস করেননি। দুদকের ভুলে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আসামি সালেকের বদলে গ্রেফতার হন জাহালম। এরপর দুদকের এসব মামলায় সালেকের বদলে জাহালমকে তিন বছর কারাগারে থাকতে হয়। কারাবন্দি জাহালম অনেকবার আদালতে হাজিরা দিলেও জামিন মেলেনি।
এদিকে, দুদকের দায়ের করা ৩৩টি মামলার মধ্যে ২৬টি মামলায় জাহালমকে আসামি আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এসব মামলায় বিচারিক আদালতে বিচারও শুরু হয়।
দুদকের মামলায় প্রকৃত আসামি আবু সালেকের বদলে নির্দোষ শ্রমিক জাহালম কারাগারে বন্দি থাকার বিষয়টি গত ৩০ জানুয়ারি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনা হয়। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে দুদকের ২৬টি মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। ওই রাতেই কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম ওরফে জানে আলম।
জাহালমের মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বিদেশে প্রশিক্ষণ:
প্রকৃত আসামি আবু সালেকের বদলে নির্দোষ শ্রমিক জাহালমকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেন দুদকের নয় কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তাদের আটজনই রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। পদোন্নতিও পেয়েছেন তারা। অন্যজন প্রশিক্ষণের জন্য বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় অবস্থান করছেন।








