পুরান ঢাকার চকাবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাবা-মা ও সন্তানসহ একই পরিবারের তিনজন নিখোঁজ ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বাবা-মায়ের লাশ শনাক্ত হলেও সন্তান এখনও নিখোঁজ। তাকে শনাক্ত করতে পারেনি সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল। এদিকে শনাক্তের পর বাবা-মায়ের লাশ আজিমপুরে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মার্চ) বিকালে বাবা সালেহ আহমেদ (৩৮) ও মা নাসরিন জাহানের (৩২) লাশ সিআইডি তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লোকমান হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সালেহ আহমেদ ও নাসরিন জাহানের লাশ এতোদিন শনাক্ত হয়নি। তাদের পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার পর তা ম্যাচিং করা হয়। এরপর আজকে সকালে তাদের পরিবারকে খবর দিয়ে লাশ হস্তান্তর করা হয়।’
নিহত সালেহ আহমেদ আইসক্রিম প্রস্তুতকারক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার বাবার নাম লাল মিয়া। পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার পূর্ব ইসলামবাগ এলাকায় তাদের বাড়ি। সালেহ আহমেদ, নাসরিন জাহান (৩২) ও তাদের ছেলে আফতাহি আহমেদ (৭) ঘটনার সময় ওই পথ দিয়ে রিকশায় যাচ্ছিলেন। এ সময় দগ্ধ হয়ে নিহত হন তারা। ঘটনার পর খালিচোখে তাদের লাশ শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ ও পরিবার। এরপর তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সালেহ আহমেদ ও নাসরিন জাহানের লাশ শনাক্ত হলেও ছেলে আফতাহি আহমেদের লাশ এখনও শনাক্ত হয়নি। ছেলের লাশ আরও কয়েকদিন পর শনাক্ত হবে বলে তাদের পরিবারকে জানিয়েছে সিআইডি।
সালেহ আহমেদের লাশ তার ভাই দীন মোহাম্মদ দীলু গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা লাশ নিয়ে এসেছি। তাদের আজিমপুরে দাফন করা হয়েছে। তবে সালেহের ছেলেকে আমরা এখনও পাইনি। পুলিশ আমাদের বলেছে, “আরও কয়েকটি বডি রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে।” পেলেই আমাদের জানাবে। আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।’
দীন মোহাম্মদ দীলু বলেন, ‘সালেহ আহমেদ, স্ত্রী নাসরিন জাহান ও একমাত্র ছেলে আফতাহিকে নিয়েই ছিল একটি সুখী পরিবার। নাসরিন জাহান চকবাজার মদিনা টাওয়ার মার্কেটের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। সালেহ আহমেদ কাজ করতেন ইগলু কোম্পানির কেরানিগঞ্জ এলাকার পরিবেশক হিসেবে। ছেলে আফতাহি প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছেলের স্কুল শেষে মা তাকে কর্মস্থলে নিয়ে যেতেন। সালেহ আহমেদ অফিস শেষে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাসায় ফিরতেন। অন্যান্য দিনের মতো বুধবার রাতেও সালেহ আহমেদ তার অফিস শেষে স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় তারা এই অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে পড়েন।’
নাসরিন জাহানের মা কোহিনুর বেগম ও ভাই ইসমাইল হোসেন পুলিশের কাছ থেকে তাদের লাশ বুঝে নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় আগুন পুড়ে ৭১ জন প্রাণ হারান। আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ।








