কারাগার কোনও বন্দিশালা নয়, এটি সংশোধোনাগার। এই অবস্থার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এরই অংশ হিসেবে প্রিজনলিঙ্কসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।
শনিবার (৯ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, পরিবারের সঙ্গে বন্দিদের টেলিফোনে কথা বলা, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ইত্যাদি হলো প্রিজনলিঙ্ক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ভিক্টিমলোজি অ্যান্ড রেস্টোরেটিভ জাস্টিস (ভিআরজে) বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে। তাদের চতুর্থ জাতীয় এ সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘প্র্যাকটিস অব রেস্টোরেটিভ জাস্টিস ইন প্রিজন: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপারচুটিনিটি ইন বাংলাদেশ’।
সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হকের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভিআরজে’র প্রোগ্রাম কোর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. ফজলে খোদা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম। সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা আখতারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. এস কে তৌহিদুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, প্রচলিত বিচারিক ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। এটি এখন সময়ের দাবি। বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থায় রেস্টোরেটিভ জাস্টিস সমন্বয় করা হলে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে। কারণ, একজন মানুষের সাজা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তার পরিবারের দেশের জন্য কোনও অবদান রাখার সুযোগ থাকে না। সংশোধনের পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিতে হবে। শর্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিতে হবে। এ সময় ‘প্যারোল’-এর মতো বিষয়ের রাজনৈতিকরণের সমালোচনাও করেন বক্তারা।
সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে এক প্যানেল আলোচনায় যোগ দেন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম আজম, অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানা, অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন রিপন খান ও মোহাম্মাদ শিবলী জামান।








