‘নারী অধিকারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সবাই কথা বলেন, কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের কারণে সৃষ্ট ক্যানসারের বিষয়টি আড়ালে থেকে যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল কেন শুধু নারীর জন্য হবে? পুরুষ কেন এই দায় নেবে না?’ এসব কথা বলেছেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্যানসার ইপিডিমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
শনিবার (৯ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য, ক্যানসার ও অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘জন্ম বিরতিকরণ পিল বেশিদিন খেলে নারীর জরায়ুমুখের ক্যানসার হয়। যারা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিচ্ছেন, তাদের ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে। নারীরা এ ধরনের ক্যানসারের বিষয়টি আড়ালে রাখে। তারা গর্ভবতী থাকলে ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়। কেউ গর্ভাবস্থার শেষ স্টেজে ধরে পড়লে চিকিৎসা শুরু করতে আরও দেরি হয়। তখন বলা হয়, সন্তানের জন্ম হওয়ার পর চিকিৎসা শুরু হবে। আবার শুরুতে ধরা পড়লে তখন গর্ভপাত করতে বলা হয়। কোনও নারী কেমোথেরাপি নিলে তাকে বলা হয়, পরবর্তী কেমোর আগে যেন সে গর্ভধারণ না করে।’
ডা. রাসকিন বলেন, ‘নারীর গর্ভধারণ, গর্ভপাত, ক্যানসার চিকিৎসা, প্রয়োজনে ক্যানসারের কারণে স্তনে অস্ত্রোপচার কোনও কিছুই নিজের সিদ্ধান্তে হয় না। তার মতামতের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয় না।’
এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন বলেন, ‘প্রজনন অঙ্গের ক্যানসারের মধ্যে জরায়ুসম্মুখে, ডিম্বাশয়ে ও কোরিওকার্সিনোমায় (জরায়ুর ফুল) ক্যানসার হয়। ৯-১৫ বছর বয়সী মেয়েদের এই সময় স্টেরয়েড হরমোন নিঃসরণ হয়। এ সময় বিয়ে দিলে তাদের ইনজুরি বেড়ে যায়। তারা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এ বয়সে তাদের বিয়ে দেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন– জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান উপদেষ্টা ইউকি ইয়োশিমুরা, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট নাইমা জান্নাত, ক্যানসার সারভাইভার রোকেয়া রুমি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেসা প্রমুখ।








