রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় হামলা মামলায় মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। ট্রাইব্যুনালে তিনজন সাক্ষী হাজির থাকা সত্ত্বেও পলাতক আসামি মামুনুর রশিদ অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরা পরোয়ানা) জারির আবেদন করেন। আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২১ মার্চ দিন ধার্য করেন।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আসামি পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহমেদসহ আরও অনেকে শুনানি করেন। এ পর্যন্ত মামলাটির ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন ট্রাইবুনাল।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অভিযোগপত্রে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিহত ১৩ জনের মধ্যে আটজন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং পাঁচজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
আট আসামি হলো— হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।
এদের মধ্যে পলাতক আসামি মামুনুর রশিদ। বাকি সাতজন আসামি কারাগারে আছে।
ঘটনাস্থলে নিহত পাঁচ আসামি হলো— রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
আর বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত আটজন হলো— তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।








