‘উচ্চশিক্ষা ও উচ্চতর শিক্ষার পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ মার্চ ২০১৯, ১৯:৫০আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ২১:১৭
image

মোহাম্মদ আলী নকী ‘উচ্চশিক্ষা ও উচ্চতর শিক্ষার পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীকে পেশাগত দিকে সফল হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছি, যাতে করে সে কাজ করতে পারে। কিন্তু ব্যক্তি বিকাশ ভিন্ন। ব্যক্তি বিকাশ কোনও যন্ত্র দিয়ে হয় না।’  উচ্চতর শিক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী নকী এ কথা বলেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘উচ্চশিক্ষায় চ্যালেঞ্জসমূহ: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এ আয়োজন।


এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষার গুণগত সংকটের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে অধ্যাপক নকী বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যার গড় করলে আমরা দুটি সমস্যা খুঁজে পাই। একটি হচ্ছে সঠিক পরিচালনা সংকট, আরেকটি হচ্ছে শিক্ষকদের মান। শিক্ষাব্যবস্থা ও মান নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সরকারি কর্তৃপক্ষ। ফলে শিক্ষায় একটি হ-য-ব-র-ল অবস্থা তৈরি হয়েছে। ’৪৭-এর পর এটি আরও বেড়েছে। আলো ছড়ানো শিক্ষকদের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। উচ্চতর শিক্ষায় একজন ছাত্র নিজের জীবিকা নিয়েই ভাবছে। অন্যের জীবিকা দেওয়ার মতো প্রসারিত শিক্ষাজীবন তাকে আমরা দিতে পারছি না। উচ্চতর শিক্ষায় এই জায়গাটায় পৌঁছানোর ওপর জোর দিতে হবে।’ 

তিনি জাতিসংঘের ২০১৫-৩০ সাল পর্যন্ত টেকসই লক্ষ্যমাত্রার নীতিমালা উল্লেখ করে বলেন, ‘এর চতুর্থ অনুচ্ছেদে কোয়ালিটি এডুকেশন তথা মানসম্পন্ন শিক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হেকোয়েপের অধীনে একটি প্রজেক্ট পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশাল ব্যয় করেছে এই প্রজেক্টটি। এতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) স্থাপন করা হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঋণ দিয়ে শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের আয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।’

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির মান নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছরে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তিন কোটি টাকা ব্যয় করেছে। সেটি অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য। শিক্ষার মান উন্নয়নে সভা, সেমিনার, জার্নাল প্রকাশের মতো বিষয়গুলোতে ব্যয় করা হয়েছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৭৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিএসি এই বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে মান নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে এখন উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে মান নির্ধারণে কাজ করা শুরু হচ্ছে। এতে মিশন, ভিশন সবই নির্ধারিত হয়েছে। স্ট্যামফোর্ডে শুধু শিক্ষকদেরই ৫০টি কর্মশালা করা হয়েছে। নিজেদের শিক্ষক না থাকলে বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। সুতরাং আমি মনে করি, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আশাব্যঞ্জক অনেক কিছুই ঘটছে।’

সাংবাদিক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে আরও অংশ নিয়েছেন– ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ভাইস চ্যান্সেলর ড. এইচ এম জহিরুল হক, ইউজিসির সাবেক নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ মোহাব্বত খান, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তফা আজাদ কামাল এবং বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম।

আজকের বৈঠকি অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) সৌজন্যে। বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা যাচ্ছে এ আয়োজন।

 

/এফএএন/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী