সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।
বুধবার (২৭ মার্চ) নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দুদকের ১০৮তম গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কোনও বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সেবা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষই বেশি আসেন। তাদের হয়রানি না করা এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে সরকারি সেবা দেওয়া প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনি দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কেউ দুর্নীতি-অনিয়মে জড়ালে কঠোর আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
দুদক কমিশনার বলেন, ‘সরকারি সেবা প্রদানে অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি এবং দীর্ঘসূত্রতা কোনও অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। এসব ক্ষেত্রে কমিশন শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানের জন্য সিটিজেন চার্টার প্রবর্তন করেছে। সরকারি সেবা প্রদানে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে।’
দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে মন্তব্য করে দুদক কমিশনার বলেন, ‘দুর্নীতি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
মো. মোজাম্মেল হক খান জানান, দেশের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সততা সংঘ’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তম চর্চার বিকাশে দেশের প্রায় ২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্রেতাবিহীন ‘সততা স্টোর’ স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে ভূমি, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি, কৃষি, সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের বিষয়ে ৪০টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ৮টির নিষ্পত্তি করা হয়। ২৫টি অভিযোগ ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।








