এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে বাকি আছে আর মাত্র তিন দিন। অথচ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি বিএম পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাননি অন্তত ২২ হাজার পরীক্ষার্থী। ঘটনার জন্য দায়ী কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন কার্ড না দিয়ে কেবল প্রবেশপত্র দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কারিগরি বোর্ডে দিনভর বিক্ষোভ প্রতিবাদ করেছেন বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা।
এদিকে এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে ‘বিপদে ফেলে’ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বিদেশ সফরে থাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ে তাদের। বিক্ষোভকারীরা চেয়ারম্যানের অবর্তমানে দিনভর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দফতরসহ বোর্ড চত্বরে অবস্থান নেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তাদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিভিন্ন কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ও বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত পরীক্ষার এক থেকে দুই মাস আগেই সব কলেজকে তাদের শিক্ষার্থীদের ছবিযুক্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেয় শিক্ষা বোর্ড। অধ্যক্ষরা বোর্ডে এসে তাদের শিক্ষার্থীদের ছবিযুক্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে যান। এরপর পরীক্ষার আগে রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেন শিক্ষকরা। পরীক্ষায় জালিয়াতি এড়ানোর জন্য প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রের সঙ্গে ছবিযুক্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ড রাখা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ হাজার পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডও সরবরাহ করতে পারেনি বোর্ড। গত কয়েক দিন ধরে শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্য বোর্ডে ধরনা দিলেও কোনও সমাধান দিতে পারেননি কর্মকর্তারা।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. সুশীল কুমার পাল বুধবার (২৭ মার্চ) বোর্ডে আসা লোকজনের সঙ্গে উল্টো খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বোর্ডে জড়ো হন তারা। একপর্যায়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ছবিযুক্ত রেজিস্ট্রেশন কার্ড না দিয়ে কেবল প্রবেশপত্র দেওয়ার ঘোষণা দিলে প্রতিবাদে সোচ্চার হন সবাই। সন্ধ্যায় আন্দোলন চলাকালে যাশোর থেকে আসা এক অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আমাদের ছাত্ররাও এসেছে। আমাদের সঙ্গে শেয়াল-কুকুরের মতো আচরণ করছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিতে পারছে না। এটা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের জন্য হয়েছে। এত বড় সমস্যার সমাধান না করে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনি গেছেন ইতালি ভ্রমণে। এসব কারণে আরও অসন্তোষ বাড়ছে।’
ওই অধ্যক্ষ জানান, রেজিস্ট্রেশন কার্ড না হলে যে কেউ জালিয়াতি করে পরীক্ষা দিতে পারে। হলে ভুয়া পরীক্ষার্থী একজন আরেকজনের পরীক্ষা দেবে। এসব কারণেই ছবি রাখা হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের বিষয়ে পড়ে জানানো হবে, প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে, বাড়ি চলে যান।
বগুড়া থেকে আসা শিক্ষার্থী হাসান বলেন, ‘আমাদের জীবন নষ্ট করে করর্মকর্তারা বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও কিছু কাজ করছেন না। পরীক্ষার আগে সকলে আছে পড়ালেখায় ব্যস্ত, আর আমাদের ঢাকায় এসে বসে থাকতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের দরজায়। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।’
বগুড়ার একটি কলেজের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের মতো অন্তত ২২ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন কার্ড পায়নি। প্রবেশপত্র দিচ্ছে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাড়া। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপদে পড়েছি। কার কাছে যাবো, বুঝতে পারছি না। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলছেন, যে সমস্যা তা চেয়ারম্যান ছাড়া তিনি সমাধান করতে পারছেন না। আবার চেয়ারম্যানও দেশের বাইরে।’
এ বিষয়ে কথা বলার মতো কর্মকর্তারও পাওয়া যাচ্ছে না। সব কর্মকর্তাই বলছেন, চেয়ারম্যান স্যার নেই। সব জানেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্যার।
সন্ধ্যায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. সুশীল কুমারে পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মিটিংয়ে আছি।’ পরীক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করে লাইন কেটে দেন। রাতে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন আর রিসিভ করেননি।








