'প্রচণ্ড ধোঁয়ায় যখন আমাদের অফিস আচ্ছন্ন তখন সবার মধ্যেই ছিল বাঁচার আকুতি। তখন আমি মনে করলাম, ১০ মিনিটের মধ্যে জানালা ভাঙতে হবে। কয়েকজন মিলে আমাদের ফ্লোর, আহমেদ টাওয়ারের দুটি জানালা ও গ্রিল ভেঙে ৩৫ জন বের হয়েছি। মুখে রুমাল চেপে ধরে সবাই হুড়োহুড়ি করে বের হয়েছি। কেউ নিজে নিজে বের হয়েছি, আবার কাউকে কাউকে টেনে বের করা হয়েছে।'
রবিবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বনানীর ফারুক রূপায়ণ (এফআর) টাওয়ারের পাশে অস্থায়ী পুলিশ কনট্রোল রুমে গণশুনানিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এ অভিজ্ঞতার কথা জানান ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নয়তলার আমার টেকনোলজি গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম।
আগুনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় আমাদের ফ্লোর ভরে যায়। তখন সহকর্মীরা শ্বাসকষ্টে পড়ে যান। নিজে ও সহকর্মীদের বাঁচাতে মনে হলো ১০ মিনিটের মধ্যে জানালা ভেঙে আমাদের বের হতে হবে। তখন কয়েকজন সহকর্মী মিলে রড দিয়ে জানালার কাচ ও গ্রিল ভেঙে ফেলেছি। পরে পাশে আহমেদ টাওয়ারের জানালায় উঠলাম। অপর সহকর্মীদের বলে রড নিয়ে ওই গ্রিল ও গ্লাসটি ভেঙে সেখান দিয়ে বের হয়েছি। পরে ওই দুই জানালা দিয়ে আমরা ৩৫ জন বের হতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘ধোঁয়ার কারণে সহকর্মীদের চোখ-মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। আতঙ্কে তারা জড়োসড়ো ছিল। কেউ মাথা আগে দিয়ে, কেউবা পা আগে দিয়ে জানালা দিয়ে বের হয়েছে। তখন মনে হয়েছিল আমার ঠিক এক হাত দূরে মৃত্যু, সেখান থেকে বের হয়েছি।’
ভবনের নয়তলার এম্পায়ার গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার এম এম কামাল জানান, ‘আমি নিচে ছিলাম। আমাদের অফিসের একজন মারা গেছে। আমরা নিচ থেকে দাঁড়িয়ে আটতলায় আগুন জ্বলতে দেখেছি।’
এফ আর টাওয়ারের সিকিউরিটি গার্ড রমজান আলী তার অভিজ্ঞতার বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমি আগুনের সংবাদ পাই। পরে নিচতলা থেকে দ্রুত ভবনের দ্বিতীয়তলার বিভিট অফিসে উঠে যাই এবং সবাইকে বের হয়ে আসতে বলি। আমি যখন উপরে উঠছিলাম তখন কোনও ধোঁয়া ছিল না। কিন্তু নিচে নামার সময় প্রচণ্ড ধোঁয়া দেখতে পাই। এই ধোঁয়ায় সবাই মুখে রুমাল চেপে সিঁড়ির রেলিং ধরে দ্রুত নিচে নেমে আসেন।’
আরও পড়ুন: ফারুক ও তাসভির সাতদিনের রিমান্ডে
এফআর টাওয়ারে আগুন: ২৫ লাশ উদ্ধার, ২৪টি হস্তান্তর








