ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হয়নি বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন। বরং নাটক সাজিয়ে ছাত্রলীগের চরিত্রে দাগ লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বুধবার (৩এপ্রিল) সকালে মধুর ক্যানটিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘হামলার প্রশ্নই আসে না। হামলার নাটক সাজিয়ে আমাদের চরিত্রে দাগ লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গুজব পারদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে তথাকথিত ভুঁইফোড় সংগঠনের (বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ) উদ্ভব হয়েছে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে ছাত্রীদের লাঞ্চনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম বলেন, ‘এগুলো আকাশ কুসুম অভিযোগ। গতকাল আপনারা দেখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভিডিও সয়লাব হয়েছে। সেখানে দেখবেন প্রভোস্টের সঙ্গে যে কথোপকথন সেখানে নুর স্বীকার করেছে তার ভুল ছিল, তার প্রক্রিয়া ভুল ছিল। বাইরে এসে সে সাংবাদিকদের বলেছে কোনও নারী শিক্ষার্থী সেখানে যায়নি। ভেতরে আমরা ছবি দেখেছি। আবার প্রভোস্ট অফিসে যখন যায় তখন ছাত্রী নিয়ে যায়। পরে সে বলে তার সঙ্গে ছাত্রী ছিল না।’
সাদ্দাম অস্বীকার করলেও মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, ডাকসুর স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন।
উম্মে হাবিবা বেনজির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সন্ধ্যায় ফরিদকে মারধরের ঘটনার লিখিত অভিযোগ প্রভোস্টকে জানাতে এসএম হলে যাই। আমরা হলের নিচে অপেক্ষা করছিলাম, নুর ফরিদকে নিয়ে তার রুমে যায় রক্তমাখা ড্রেস পাল্টানোর জন্য। সে সময় হল ছাত্রলীগের ছেলেরা আমাদেরকে বিভিন্ন অশালীন কথা বলে এবং এক সময় তারা আমাদেরকে ডিম ছুড়ে মারে। এরপর আমরা এসএম হলের মূল গেটে অবস্থান নেই। নুর ভেতরে অবরুদ্ধ ছিল। ভেতর থেকে নুরসহ অন্যরা যখন বের হয়, তখন আমরা দেখি ছাত্রলীগের হল শাখার নেতৃবৃন্দ আমাদের পেছনে পেছনে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি লাথি, কিল ঘুষি শুরু করে। আমাকে উদ্দেশ করে একজন বলে, ‘এরে ধর ধর’! আরেকজন আমার পেটে লাথি মারে।’
শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘উর্দু বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফরিদ ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী ছিল, তাকে বিভিন্নভাবে ছাত্রলীগ চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচন করতে দেয়নি। পরবর্তীতে অছাত্রদের বের করে দেওয়ার যে অভিযান ছিল সেখানেও তার ভূমিকা ছিল। এজন্য সোমবার (১ এপ্রিল) ছাত্রলীগের নেতারা ফরিদের ওপর হামলা চালিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে আমরা এসএম হলে যাই। ছেলেদের হল হওয়ায় আমরা গেটের বাইরে অবস্থান করছিলাম। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের উদ্দেশ করে আপত্তিকর উক্তি করে। তাদের কয়েকজনকে আমি চিনতে পেরেছি।’








