২০১৮ সালের জনবল ও বেতন কাঠামো অনুযায়ী স্বতন্ত্র মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-কাঠামো চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে শিগগিরই। এটি শেষ হলেই অনুদান পাওয়া এক হাজার ৫১৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাবেন। এরইমধ্যে অনুদান পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের যাবতীয় তথ্য নির্ধারিত ছকে চাওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেশের যেসব মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত নয় এবং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে সেগুলোরও তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এত কিছুর পরেও বাজেটকে সামনে রেখে স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। শিক্ষক নেতারা বলছেন—ভরসা হারিয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
১ এপ্রিল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবারও (৪ এপ্রিল) তাদের দাবি তুলে ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। তবে শিক্ষকরা তাদের দাবি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। শিক্ষক নেতারা বলছেন— আমরা জাতীয়করণ বা কাঠামো অনুযায়ী বেতনের দাবি করছি। সরকার কিছু একটা ব্যবস্থা তো করবে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো, রাস্তা থেকে উঠবো না।
শিক্ষকদের আন্দোলন ও সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনবল ও বেতন সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী বেতন কাঠামো করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের অনুমোদন নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে। এখানে শিক্ষকদের ভরসা হারানোর কিছু নেই। আন্দোলন শুরু করার আগে থেকেই তো এ নিয়ে কাজ চলছে।’
শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে সচিব আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি সুনির্দিষ্ট নয়, তারা কখনও বলছেন জাতীয়করণ করতে হবে, কখনও বলছেন বেতন-ভাতা দিতে হবে। জাতীয়করণ করা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্য বেতন-ভাতা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
সরকার যেহেতু বেতন-কাঠামো চূড়ান্ত করছে, তাহলে কোন দাবিতে আন্দোলন জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুল আলম বলেন, ‘শিক্ষকরা ভরসা হারিয়ে আন্দোলন করছে। সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী একটা কিছু তো করবে। প্রাথমিক শিক্ষকদের সরকারি করা হয়েছে। আমরা এখনও সামান্য অনুদান পাচ্ছি। বেশিরভাগ শিক্ষক অনুদানও পান না। অনেক দিন থেকে শুনছি বেতন-ভাতা দেবে, কিন্তু পাচ্ছি না। তাই আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে আমরা আর আন্দোলন করবো না।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষকের সমমান দিয়ে জনবল ও বেতন কাঠামো সংক্রান্ত নীতিমালা গত বছর ১৮ নভেম্বর জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রধানসহ চারজন শিক্ষক থাকবেন। এদের মধ্যে একজন এতবেদায়ি প্রধান, দুইজন এবতেদায়ি সহকারী শিক্ষক এবং একজন এবতেদায়ি ক্বারি শিক্ষক। এবতেদায়ি প্রধান ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ১১তম গ্রেডে বেতন পান। সেই হিসেবে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা পাচ্ছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী এবতেদায়ি সহকারী এবং ক্বারি শিক্ষক বেতন পাবেন ১৬তম গ্রেডে। শিক্ষাগত যোগ্যতা সহকারী শিক্ষক আলিম পাস এবং ক্বারি শিক্ষক আলীম বা এসএসসি সমমান (বিজ্ঞান)। সরকারি শিক্ষকদের বেতন শুরু হবে ১৪তম গ্রেডে। বর্তমান নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম বিএ।
এবতেদায়ি শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর আওতায় নেওয়া হলেও সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথা বলা নেই নীতিমালায়। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের আদলেই সরকারি বেতন-ভাতা গ্রেড অনুযায়ী প্রাপ্য হবেন। একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর শিক্ষকরা বেতন-ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বর্তমানে ইবতেদায়ি প্রধান শিক্ষকরা দুই হাজার ৫শ‘ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা দুই হাজার ৩০০ টাকা সরকারি অনুদান পাচ্ছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যক্ষেণে বলা হয়েছে, একসঙ্গে নয়, পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর আওতায় নিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে মোট ১৮ হাজার ১৮৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নিবন্ধন দেয় সরকার। এরমধ্যে ১৯৯৪ সালে এক হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসাকে ৫শ‘ টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু হয়। একই সময় সমান অনুদান পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। তবে, এখনও সামান্য অনুদানেই চলছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুল আলম এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘২০১৭ সালের জরিপে মাদ্রাসার সংখ্যা ১২ হাজারের মতো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক কমে গেছে। এসব মাদ্রাসার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোডধারী অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়া মাদ্রাসার সংখ্যা ছয় হাজার ৯৯৮টি। ব্যানবেইসের হিসাব মতে, ইআইআইএন নম্বরধারী প্রতিষ্ঠান তিন হাজার ৩৩৪টি।
আরও পড়ুন: সরকারি প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান ইবতেদায়ি শিক্ষকরা








