সাত বছর ধরে নিখোঁজ বাবার খোঁজে মায়ের সঙ্গে বের হয়ে পুরান ঢাকার এক শিশু বাস থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। তার নাম শারমিন আক্তার (১১)। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৯ টায় মোহাম্মদপুর বাসস্টান্ডে বিআরটিসি ডাবল ডেকার বাস থেকে সে পড়ে যায়। সঙ্গে তার মাকেও হাসপাতালে দেখা গেছে।
শিশুটির মা আছিয়া খাতুন জানান, ‘৬-৭ বছর আগে শারমিন ও আমাকে রেখে তার বাবা নুর আলম নিখোঁজ হয়। আমার কাছে কিছু জমানো টাকা ছিল, তা নিয়ে সে চলে আসে। অনেকদিন পর, আমি তার একটি মোবাইল নম্বর পাই, মাঝে মাঝে কথা হতো। কিন্তু ঠিকানা বলতো না। কয়েকদিন আগে জানতে পারি, সে নিউমার্কেটে একটি দোকানে কাজ করে। এরপর রবিবার শারমিনকে নিয়ে নিউমার্কেট গিয়ে খুঁজে পাইনি। এরপর মোহাম্মদপুরে আমার ভাগ্নির বাসায় যায়। সেখানে রাতে ছিলাম। সোমবার সকালে মোহাম্মদপুর বাসস্টান্ড থেকে গুলিস্তান হয়ে পুরান ঢাকার বাসায় যাওয়ার জন্য বিআরটিসির বাসে ওঠার চেষ্টা করি, মেয়ে আগে বাসে ওঠে, আমি উঠতে পারি না। বাসটি ছেড়ে দেয়। এ সময় মেয়ে বাস থেকে পড়ে যায়। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরতর আহত অবস্থায় শারমিন নামে এক মেয়ে আমাদের এখানে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা আঙ্কাজনক। তাকে ভালো করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
শারমিন স্থানীয় স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তার মা বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।
শারমিনের খালাতো ভাই রিপন জানান, শারমিনের বাবা নুর আলম প্রথম বিয়ে গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করে। শারমিন জন্ম নেওয়ার কয়েক বছরের মাথায় সে বাসা থেকে চলে যায়। এরপর শারমিন ও তার মায়ের আর কোনও খোঁজ নেয়নি সে। তিনি বলেন, ‘শারমিন তার মায়ের সঙ্গে বাবার খোঁজ করতে গিয়ে আজ তার এই অবস্থা।








