‘যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস’ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা এক আসামির আবেদন শুনানির জন্য আগামী ৯ মে তারিখ ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ‘যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস’ হবে কিনা সে বিষয়ে আইনি মতামত তুলে ধরতে সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন—রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, আবদুর রেজাক খান ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। অন্যদিকে, আসামির রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও ব্যারিস্টার শিশির মনির।
এর আগে ২০০৩ সালের ১৫ অক্টোবর একটি হত্যা মামলায় দুই আসামি আতাউর মৃধা ওরফে আতাউর ও আনোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের লক্ষ্যে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। এই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।
হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল বিভাগে আপিলের আবেদন জানান।
২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে আদালত যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাসসহ সাত দফা অভিমত দেন। এরপর আপিলের ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে তা বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। কিন্তু আদালত এ বিষয়ে শুনানি করতে চারজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করে আগামী ৯ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।








