গত ৬ এপ্রিল শবে বরাতের চাঁদ দেখা গেছে মর্মে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট দায়েরে কোনও অনুমতি (হলফনামা) দেননি হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বলেছেন, ‘এখন একবারেই লাস্ট স্টেজে। এ অবস্থায় নতুন করে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।’ বুধবার (১৭ এপ্রলি) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম।
পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, আবেদনকারীদের বক্তব্য হলো- গত ৬ এপ্রিল শবে বরাতের চাঁদ দেখা গেছে। সে অনুযায়ী শবে বরাত আগামী ২০ এপ্রিল। এ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য সংযুক্ত করে ১০ জন হাইকোর্টে আবেদন করতে চেয়েছেন। মামলাটির বিষয়ে অনুমতি নিতে আদালতে এসেছিলাম। তবে আদালত আমাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমরা অনুমতি (রিট দায়েরের) দিবো না।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সভা করে জানিয়েছিলো, ওইদিন দেশের আকাশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৮ এপ্রিল থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং আগামী ২১ এপ্রিল দিনগত রাতে পবিত্র লায়লাতুল বরাত পালিত হবে।
তবে ‘মজলিসু রুইয়াতিল হিলাল’ নামে একটি সংগঠনের দাবি সেদিন খাগড়াছড়িতে চাঁদ দেখা গেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র লায়লাতুল বরাত পালিত হওয়ার কথা। এ নিয়ে বিতর্ক এড়াতেই জরুরি বৈঠক ডাকে সরকার।
গত ১৩ এপ্রিল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শাবান মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে ১১ সদস্যের সাব-কমিটি গঠন করা হয়। এরপর গত ১৬ এপ্রিল বৈঠকে আগামী ২১ এপ্রিল শবে বরাত অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে সরকার।
এদিকে আজ বুধবার (১৭ এপ্রিল) শুনানিকালে সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম আদালতকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ মতো আমি ইসলামকি ফাউন্ডশেনকে এমনকি মন্ত্রী মহোদয়কেও টেলিফোন করে বলেছি, চাঁদ দেখা নিয়ে আপত্তিকারীদের দরখাস্ত গ্রহণ করতে। গত ১৬ এপ্রিল কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আপত্তিকারীদের দরখাস্ত নিয়ে আলোচনাও করা হয়েছে। এরপর আদালত আর আবেদনকারীদের রিট দায়েরের (হলফনামা) অনুমতি দেননি।








