রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলায় দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষীরা হলেন— লতিফুল বারী ও সাইফুল ইসলাম। সোমবর (২৯ এপ্রিল) এ দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেন।
সোমবার আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদসহ একাধিক আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেন। জেরা শেষে বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেন। এদিন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এ পর্যন্ত মামলাটির ৩৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন ট্রাইবুনাল।
২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে ওই বছরের ৮ আগস্ট আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।
এর আগে গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। এরপর ৩০ জুলাই মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য দিন ধার্য করেন। পরে ৭ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি পৌঁছায়।
অভিযোগপত্রে থাকা ২১ আসামির মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
অভিযোগপত্রে জীবিত ৮ আসামি হলো— হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে রাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।
এদের মধ্যে পলাতক আসামি মামুনুর রশিদ। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি ৭ জন আসামি কারাগারে আছে।
ঘটনাস্থলে মামলার যে ৫ আসামি নিহত হয়, তারা হলো— রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো— তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এসময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।








