সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা ভালো নয় উল্লেখ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসরাফিল আলম বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী পাঠালে অবশ্যই তাদের অধিকার, নিরাপত্তা, কর্মঘণ্টা এবং ওভারটাইম ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ নিশ্চিত করে পাঠাতে হবে। তা না হলে তারা সেখানে গৃহদাসে পরিণত হবে।’
বুধবার (১ মে) ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসরাফিল আলম বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটা সমঝোতা চুক্তি আছে অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে। এটা একটা ভালো চুক্তি আমরা করেছিলাম, কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের সরকারকে অভিবাসী কূটনীতি শক্ত করতে হবে। এখন কী অবস্থা সেখানে? সেখানে অভিজ্ঞতা ভালো নয়। শুধু সৌদি আরব নয়, মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশেই গৃহকর্মীদের অবস্থা ভালো নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মা-বোনেরা শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হন। তাদের ইজ্জত ভুলণ্ঠিত হোক— এটা আমরা কেউ চাই না। তাই আমরা যদি অধিকার নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে আমাদের মা-বোনদের বিদেশে পাঠানোর দরকার নাই।’
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শ্রম আইন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। কৃষি ক্ষেত্রে শ্রমিকরা অধিকার পায় না। একটা ইনফরমাল সেক্টরে আমাদের শ্রমশক্তির ৮৬ শতাংশ মানুষ কাজ করে। তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। শ্রম আইন ১৫-১৬ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছে। বাকি বিশাল জনগোষ্ঠী শ্রম আইনের কোনও সুবিধা পাচ্ছে না। শ্রম আইন দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকার আমাদের রক্ষা করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা কীভাবে করতে হয়, সেটা আমাদের চেষ্টা করতে হবে।’
মতবিনিময় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির পরিচালক জেসিয়া খাতুন। এতে বিদেশফেরত নারী শ্রমিকরাও তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।








