দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে তথ্যপ্রবাহ আটকে দিলে অপ-তথ্যপ্রবাহ জায়গা করে নেয় এবং এর ফলে সমাজে ফেইক নিউজ ছড়িয়ে পড়ে। তাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে অপ-মিডিয়াগুলো গুজব ছড়াতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
শুক্রবার (৩ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা সংগঠন ‘ভয়েস’ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘ফেইক নিউজের যুগে মিডিয়া টিকে থাকবে কিনা? সেক্ষেত্রে আমাদেরকে তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। এক. আমাদের নিউজের কনটেন্ট ঠিক রাখতে হবে, যা আমাদের দেশে নেই। দুই. পেশার সঙ্গে মিল রেখে নিউজ উপস্থাপনের ধরন ঠিক রাখা এবং তিন. প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা, নয়তো এর অপব্যবহার শুরু হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন আমরাও চাই। তবে সেই আইনে করা মামলায় তদন্তের আগেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন বলেন, ‘ভিন্ন মতের সংবাদ মাধ্যমগুলোকে থামিয়ে না দিয়ে কীভাবে তাদের সঠিক তথ্য সরবরাহ করা যায়, সেই ব্যবস্থাপনা আমাদের গড়ে তুলতে হবে। কেননা, আপনি যতই বাধা তৈরি করবেন, তত বেশি ফেইক নিউজের পথ তৈরি হবে।’
অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন বলেন, ‘ফেইক নিউজ নিয়ে আমরা অনেকেই অনলাইন মিডিয়াগুলোকে দোষ দেই, অথচ মাঝে মাঝে কিছু শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকাতেও এ ধরনের নিউজ করা হয়। আবার মিডিয়াগুলোতে সেন্সরশিপ সবসময়ই থাকবে, তবুও এর মধ্যে থেকে আমাদেরকে আরও প্রশস্তভাবে কাজ করার চিন্তা করতে হবে।’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিট অ্যাক্ট থেকে চারটি ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে এই ৫৭ ধারাকে ভেঙে আরও ধারা করা হয়েছে। তাই এখানেও আমাদের আপত্তি রয়ে গেছে। আবার ৩২ ধারা নিয়েও আপত্তি শুরু হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের জায়গা থেকে মূলত এসব আপত্তির শুরু। তাই এসবের সংশোধন দরকার রয়েছে বলে মনে করি।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ড. সৈয়দা আইরিন জামান, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বাংলাদেশ প্রতিনিধি সালিম সামাদ প্রমুখ।








