দেশের বেসরকারি মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল হাসপাতালে অসহায় ও গরীব রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলে সময় বৃদ্ধি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৬ জুনের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে করা এক রিটে সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (৮ মে) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী মো. আবু তৌহিদ ভূঁইয়া প্রিন্স। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ৭ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে সরকারি কাজে বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক দেশের বাইরে থাকায় ওই প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। তাই আদালতে সময় চেয়েছিলাম। আদালত প্রতিবেদন দাখিলে সময় মঞ্জুর করেছেন।’
গত ৭ মার্চ অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে সেবাদানকারী হাসপাতালের তালিকা দাখিলের নির্দেশ ছাড়াও আইন অনুযায়ী দেশের বেসরকারি হাসপাতালে অসহায় ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় বিনামূল্যে ১০ শতাংশ বেড ও চিকিৎসা সুবিধা প্রদানে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, এর আগে বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল হাসপাতালে অসহায়, গরীব ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ১০ শতাংশ বেড ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পরিচালক, চেয়ারম্যান এবং প্রিন্সিপালকে বিবাদী করা হয়।
পরে আইনজীবী মো. আবু তৌহিদ ভূঁইয়া প্রিন্স জানিয়েছিলেন, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ (সংশোধিত)-তে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কমপক্ষে ২ বছর পূর্ব হতে প্রস্তাবিত ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় কাঠামোসহ ন্যূনতম ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল (৭০ শতাংশ বেড অকুপন্সিসহ) চালু থাকতে হবে, যাতে চিকিৎসা শিক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ হাসপাতালে রুপান্তর করা যায়। হাসপাতালে দরিদ্র জনগণের জন্য বিনা ভাড়ায় অন্তত ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণসহ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হবে। হাসপাতালে সমস্ত আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম থাকতে হবে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
তবে ওই নীতিমালা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের গত ৩০ জানুয়ারি একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী মো. আবু তৌহিদ ভূঁইয়া প্রিন্স। কিন্তু সে নোটিশের জবাব না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।








