খাগড়াছড়ি সদর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের মামলায় মুক্তমনা লেখক ও আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মাহমুদের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৫ মে) ঢাকা মহামগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে বনানী থানায় সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআর) শেখ রকিবুর রহমান এ তথ্য জানান।
এদিনই সকালে বনানী থেকে ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়।
ইমতিয়াজ মাহমুদের পক্ষে আইনজীবী ও ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচি, শাখাওয়াত হোসেন তছলিমসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী জামিন শুনানি করেন।
শুনানিতে তারা বলেন, আসামি একজন আইনজীবী। তিনি ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট থেকে চার্জশিট দাখিল পর্যন্ত জামিন পান। মনে হয় আগে থানায় কোনও ওয়ারেন্ট ছিল, সে কারণে তিনি গ্রেফতার হয়। তিনি তো এ মামলায় জামিনে আছেন।
বিচারক বলেন, মামলার চার্জশিট তো দাখিল হয়েছে। ওয়ারেন্ট তো দেখা যাচ্ছে গত ১৯ জানুয়ারির। আসামি হয়তো কোনও কারণে হাজিরা দেননি বিধায় ওয়ারেন্ট হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান রচি আরও বলেন, অন্তত এক সপ্তাহের জন্য নির্দেশনা দিয়ে জামিন দেন।
শুনানি শেষে বিচারক ইমতিয়াজ মাহমুদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ জুলাই আসামি ইমতিয়াজ মাহমুদ ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করেন। তাতে লেখেন, ‘খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার ১ নং সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সৌনিয়া গাঁ ও ব্রত চন্দ্র কারবারী পাড়া থেকে শতাধিক সেটেলার সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালাচ্ছে। এ গ্রামগুলোতে ত্রিপুরা আধিবাসীর বাস। রাত ১১টার দিকে সৌনিয়া গাঁকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে লুটপাট চালানো হয়েছে। ১১টার দিকে ব্রত চন্দ্র কারবারী পাড়ায় চলছিল নির্বিচারে হামলা, মারধর আর লুটপাট। গ্রামে ত্রিপুরা আধিবাসী মানুষজন প্রাণভয়ে পালাচ্ছে বাড়িঘর ছেড়ে। সেটেলেরা তো আমাদের থাকতে দেবে না ভাই।’
ওই ঘটনায় ২০১৭ সালের ২১ জুলাই সদর থানার পুলিশের পরিদর্শক তারেক মো. আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
বুধবার (১৫ মে) দুপুরে বনানী থেকে ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও খবর...
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ গ্রেফতার








