কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের দশম শ্রেণির ছাত্র আবু বিন রশিদকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে, এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিতকরণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বাবা মো. নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
রশিদ কুষ্টিয়ার টিইএসএল ইংলিশ ভারশন স্কুলের ছাত্র। সে স্কুলটির হোস্টেলে থাকতো। গত ২৫ মে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের গলায় ফাঁসের চিহ্ন ছিল। নজরুল ইসলামের দাবি, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, রশিদ আত্মহত্যা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে রশিদের বাবা বলেন, ‘গত শনিবার (২৫ মে) বেলা ৩টা ২৮মিনিটে আমরা কাছে একটা ফোন আসে। ফোনে ছেলে গুরুত্বর অসুস্থ জানিয়ে আমাকে দ্রুত স্কুলে যেতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পর আবারও ফোন দিয়ে হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে ছেলেকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে বলে, সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার (২৪ মে) আমি ছেলেকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দিই। হোস্টেলে ফোন ব্যবহারের নিয়ম নেই। তাই শনিবার ভোরে সেহেরির পর প্রধান শিক্ষক তার মোবাইল জব্দ করে। আমার ছেলের হোস্টেলটি সিসিটিভি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যেকোনও কার্যকলাপ সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। কিন্তু সিসিটিভিতে ওই দিন বেলা ১১টা ৫০মিনিটের পরের কোনও ফুটেজ নেই। এ বিষয়ে হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে, তারা বলে, বিদ্যুৎ ছিল না। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক লাইন ঠিক করার জন্য তারা দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিয়েছিল।’
রশিদের বাবা আরও বলেন, ‘আমার ছেলের গলার শুধু বাম পাশে ফাঁসের দাগ পাওয়া গেছে। কোনও সুইসাইড ব্যক্তির ফাঁসের দাগ এমন থাকে না।’
নিহতের বড় বোন নাহিদা পারভীন নুপুর বলেন, ‘আমাদের সুইসাইড নোট দেখানো হয়েছে। অথচ আমার ভাইয়ের হাতের লেখার সঙ্গে সুইসাইড নোটের লেখার কোনও মিল নেই।’
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত বলেন, ‘নিহতের হাতের লেখা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে।’








