রাজু ভাস্কর্যে ঈদ পালন করছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৫ জুন ২০১৯, ১৫:১৬আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ২২:৪০

 

রাজু ভাস্কর্যে ঈদ পালন করছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার (৫ জুন) ঈদের দিনও রাজু ভাস্কর্যের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এর আগে ৩১ মে বিকালে নিজেদের অবস্থান জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঈদুল ফিতর পালন করার কথা জানিয়েছিল অবস্থানকারীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কমিটিতে বিতর্কিত ১৯ নেতার নাম প্রকাশ না করার মাধ্যমে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া আন্দোলনে থাকা নেতাকর্মীদের খোঁজ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

তাদের আরও অভিযোগ, যে ১৯ জনের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন‘বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করতে’। কিন্তু তারা বিতর্কিতদের বাদ দিতে রাজি নয়। তাদের নাম প্রকাশ না করে বৈধতা দিতে চাচ্ছেন তারা।

আন্দোলনের মুখপাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল মধুর ক্যান্টিনে হামলাকারীদের বিচার এবং যারা বিতর্কিত তাদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করার। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও নির্দেশ ছিল কমিটি পুনর্গঠন করার। কিন্তু তারা সেটি করেনি। আমরা চাই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে আমাদের মধ্যে যারা পদবঞ্চিত তাদের মূল্যায়ন করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে এসব দাবি নিয়ে কর্মসূচি পালন করছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম আমাদের দাবি মেনে না নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিতর্কিতদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিতর্কিত কমিটিকে বৈধ করার পাঁয়তারা চলছে, তখন আমরা এখানে আবার অবস্থান নিলাম। আমাদের দাবি যেটা আগে ছিল, সেটা এখনও আছে। সবাই ঈদ করতে চায় পরিবারের সঙ্গে, আমরাও চেয়েছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি চায়নি আমরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করি। বরং বিতর্কিতদের আনন্দ করার সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। আমরা চাই জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে এসে এর একটা সুরাহা করুক।’

ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক এস এম মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এসেছিল রোজার মধ্যে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাইনি আমরা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তারা প্রতিশ্রুতি অনেকবারই দিয়েছে, কিন্তু কোনোটাই বাস্তবায়ন করেনি।’

উল্লেখ্য, ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, চাকরিজীবী, ছাত্রদল রয়েছে বলে দাবি করে আন্দোলন করেন পদবঞ্চিত এবং পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। পরে ১৯ মে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ২৬ মে রাত ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ অবস্থান নেন তারা।

/এসও/এআর/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম