সম্প্রতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আটটি পাস্তুরিত (প্যাকেটজাত) দুগ্ধের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন গবেষক। এছাড়া, অপাস্তুরিত দুগ্ধেও ডিটারজেন্ট এবং ফরমালিন পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তারা। তাদের এই গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনও ধরনের দায় নিতে নারাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদভুক্ত চারটি বিভাগ।
রবিবার (৩০ জুন) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো চারটি বিভাগের চার চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এই প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তির কথা জানেন না চার বিভাগের ডিন ড. এসএম আব্দুর রহমান।
গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই গবেষণাকে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের একান্ত ব্যক্তিগত এবং অনানুষ্ঠানিক গবেষণা বলে উল্লেখ করেন। চারটি বিভাগের সমন্বয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ২৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও ফার্মেসি বিভাগের বরাতে তেল, দুধ, মসলাসহ ৭১টি খাদ্যপণ্যের মান সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২৭ জুন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের গবেষণা ফল মিথ্যা’ মর্মে যে বক্তব্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদভুক্ত চার বিভাগ যথাক্রমে—ফার্মেসি, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি ও ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাই আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’
এতে আর বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে খাদ্যপণ্যের মান সংক্রান্ত যে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর পক্ষ থেকে করা কোনও আনুষ্ঠানিক গবেষণা নয়। এটি মূলত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের একান্ত ব্যক্তিগত গবেষণালব্ধ রিপোর্ট। ওই গবেষণার সঙ্গে অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই এ ব্যাপারে আমরা কোনও প্রকার দায়িত্ব নিতে পারি না। এমতাবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও জনমনে খাদ্যপণ্যের মান সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে যে বিভ্রান্তি ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সামগ্রিক বিষয়ে প্রত্যেককে তাদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই।
এদিকে গণমাধ্যমে চার চেয়ারম্যানের পাঠানো এই বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেন ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চারটি বিভাগ সমন্বিতভাবে যে প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবহিত না। যদিও আমাকে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়াটা তাদের উচিত ছিল। কিন্তু এটা তারা করেননি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবহির্ভূত কাজ করেছেন। ডিনকে অবহিত না করে অধীনস্থ বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়াটা বিশ্ববিদ্যালয়ে রীতি নেই। আমি শিক্ষকদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আমাকে না জানিয়ে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়াটাকে আমি স্বাভাবিক মনে করছি না। কারণ, ডিন পুরো অনুষদের বেশির ভাগ শিক্ষকদের প্রতিনিধি।’
ডিনকে না জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উনি তো গবেষণা রিপোর্টের পক্ষে, তাই ওনাকে জানানো হয়নি।’
আরও পড়ুন:
দুধ পরীক্ষায় ঢাবির ফার্মেসি বিভাগের সংশ্লিষ্টতা নেই!








