‘আপনার মেয়েকে খুন করে লাশ খাটের নিচে রেখেছি। ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন, না হলে আপনার মেয়ের লাশ খাটের নিচ থেকে নিয়ে যান।’ স্ত্রীকে খুনের ব্যাপারে শ্বশুরকে ফোন দিয়ে এভাবেই বলেছেন আমির হোসেন। এরপর পালিয়ে যায় সে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকারও করেছে আমির।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এই তদন্ত সংস্থার প্রধান বনজ কুমার মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
এর আগে, ২ জুন রাতে মোহাম্মদপুর রায়েরবাজারের একটি বাসা থেকে শারমিন বেগমের (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত শারমিনের গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন এলাকায়। তার বাবার নাম ছাবেদ আলী (৫০)। চার মাস আগে আমির হোসেনের সঙ্গে শারমিনের প্রেম হয়। এরপর তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা রায়েরবাজারে কৃষি মার্কেটের পেছনের একটি বাড়িতে ভাড়া ছিলেন। সেখানেই স্বামীর হাতে শারমিন খুন হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পিবিআই প্রধান বনজ কুমার বলেন, ‘গত ৩০ জুন বিকালে শারমিনের বাবার বাসায় গিয়ে ১০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে আমির হোসেন। টাকা নেই জানালে সে বাসা থেকে চলে যায়। ১ জুলাই রাতে ফের ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তার শ্বশুরের কাছে যায় আমির। এ সময় শারমিনের বাবা তাকে এক হাজার টাকা দিয়ে বলেন, আর টাকা নেই। এক হাজার টাকা নিয়ে আসার সময় তার শ্বশুরকে হুমকি দেয়, টাকা না দিলে মেয়েকে শেষ করে দেওয়া হবে।’
বাসায় এসে আমির শারমিনের মোবাইল থেকে ফোন দিয়ে তার শাশুড়িকে বলে, ‘আপনার মেয়েকে খুন করে খাটের নিচে রেখেছি, লাশ নিয়ে যান।’ তবে তার এই কথায় গুরুত্ব দেয়নি শারমিনের পরিবার।
ভোররাতে শারমিনের গোঙানির শব্দ পেয়ে বাড়ির ম্যানেজারের স্ত্রী মমতাজ বেগম বাসায় ঢুকে দেখে শারমিন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর শারমিনকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সকালে মমতাজ বেগম শারমিনের মাকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানায়। এরপর তারা সবাই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে শারমিনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে শারমিনের লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের পর তার বাবা ছাবেদ আলী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের পর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রামের ইপিজেএড এলাকা থেকে আমিরকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার বলেন, ‘আমির হোসেন এর আগে আরও দুটি বিয়ে করেছে। তার সন্তান রয়েছে। সে বিয়ে আর এরকম অপরাধ করে বেড়ায়। তাকে গ্রেফতারের পর সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায়।’








