রাজধানীর বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেণুকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয় সন্দেহে এক তরুণকে আটক করে থানায় দিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। তবে আটক ব্যক্তি হৃদয় নয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাকে জনগণ ধরে পুলিশে দিয়েছিল। কিন্তু, আসামি হৃদয় ও আটক যুবক আলাদা ব্যক্তি হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শাহবাগ ও বাড্ডা থানা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) বিকালে গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে হৃদয় সন্দেহে এক যুবককে আটক করে কয়েকজন সাধারণ মানুষ। তাকে আটক করে সোপর্দ করা হয় গুলিস্তান পুলিশ ফাঁড়িতে। এরপর তাকে নিয়ে আসা হয় শাহবাগ থানায়। সেখান থেকে খবর দেওয়া হয় বাড্ডা থানায়। কারণ, রেনু হত্যা মামলাটি বাড্ডা থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
খবর পেয়ে বাড্ডা থানা পুলিশ আটক যুবককে শাহবাগ থেকে বাড্ডা থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার পরিচয় শনাক্ত করার জন্য যাচাই বাচাই চলে। হৃদয় ও আটক যুবক এক না হওয়ায় তাকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আটক যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাড্ডা এলাকায় হৃদয়কে চিনে এমন কয়েকজনকে এনে দেখানো হয়। তারা জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা হৃদয় ও আটক যুবক এক ব্যক্তি নন। এছাড়া আটক যুবকের নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করে জানা যায়, তার নাম আল আমিন, বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। এরপরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেণুকে পিটিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ওইদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডা কাঁচাবাজার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৪-৫শ’ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলার প্রধান আসামি হৃদয়।
ভিডিও দেখে হৃদয়ের ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশের পর হৃদয় ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জের ভূলতা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে মহানগর ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।








