বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকীসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইএস (ইসলামিক স্টেট) –এর নামে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে করা মামলাগুলো আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে বঙ্গবন্ধুর মাজার ও এবি সিদ্দিকীর বাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে।
বুধবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় এবি সিদ্দিকীর বাসায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আসা চিঠিতে এই হুমকি দেওয়া হয়। বুধবার রাত ১০টায় এবি সিদ্দিকী হাতিরঝিল থানায় বিষয়টি জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নং ১০২০।
বাংলা ট্রিবিউনকে এ বি সিদ্দিকী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের সময় ৪২ জনকে হত্যার অভিযোগ এনে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এবি সিদ্দিকীকে আইএসের নামে লেখা চিঠির বক্তব্য এরকম—
‘বরাবর,
এবি সিদ্দিকী।
শেখ হাসিনার একান্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি। বিশ্ব মামলাবাজ।আসসলামু আলাইকুম।প্রিয় ভাইজান,আপনি কথা দিয়ে কথা রাখেন নাই। তাই মনে বড় কষ্ট পেলাম।
গত মাসে আমাদের ছাত্রদলের ছেলেরা আপনাকে কোর্টের আশেপাশে নেতাকর্মীদের নির্দেশে আটক করে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল।আমাদের মা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা করেছেন, তা প্রত্যাহার করে নেবেন। আর আপনার গা থেকে মুজিব কোর্ট খুলে নিয়ে বলেছিলেন— আর কোনও দিন মুজিব কোর্ট ব্যবহার করবেন না। মামলা তুলে নেওয়ার শর্ত দিয়েছিলেন এবং কথা রাখেন নাই। বরং উল্টোটা করেছেন। আপনি তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ছয়জন নেতা ও পাঁচ জন কর্মীর বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছেন। তাই আমার নেতা তারেক রহমান আপনার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আইএসের সঙ্গে চুক্তি করে আমাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন।
আপনার ঠিকানা,আপনার নেতা বঙ্গবন্ধু, পরিবারবর্গ ও আত্মীয়স্বজন এবং গোপালী পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বসবাসের সব ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য। তাই আমি আমাদের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে সব ঠিকানা সংগ্রহ করে, আপনার ঠিকানায় একটি গোপন চিঠি পাঠাইলাম।আপনি যদি তারেক রহমানের নির্দেশ মতো কাজ করেন, তাহলে আগামীতে আপনি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন।আপনাকে কিছু শর্ত দিলাম—
আগামী ১৫ আগস্টের আগে আপনার করা সব মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন। আবারও শর্ত ভঙ্গ করলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আপনিসহ আপনার পরিবারের সবাইকে মরতে হবে। প্রয়োজনে আপনার বাসভবন রাতের অন্ধকারে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। চুক্তি সাপেক্ষ আইএস সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করেছেন। যে ১৫ আগস্ট আপনার বাবা শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল, একই কায়দায় আইএসের সদস্যদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত সবাইকে আগামী ১৫ আগস্টে হত্যা করা হবে এবং শেখ মুজিবের মাজার বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতিহাসে শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানের নতুন বাংলাদেশ ঘোষণা দেওয়া হবে। এদেশ থেকে মুজিব কোর্ট জয় বাংলা স্লোগান মুছে ফেলে নতুন বাংলা জিন্দাবাদ রাষ্ট্রীয় স্লোগান চালু করা হবে। আপনার কাছে একটাই শর্ত বিষয়টি গোপন রেখে আমাদের শর্ত পালন করলে আপনি এদেশের আরেকজন বিশেষ ব্যক্তি হতে পারবেন। বুঝতে পারছেন তো, আপনার সরকার এত বড় সাহসি দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু আপনি কোনও লাভবান হতে পারেন নাই। হয়েছেন আপনার দলের কাছে অবহেলিত।
এবার আমার পরিচয় জেনে নিন। আমি হাফিহুর রহমান রানা, বুয়েটের প্রভাষক থাকাকালে ২০১২ সালে আমার ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। তাই আপনি আমাকে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়ে সাত বছর সাজা দিয়েছেন এবং দেশছাড়া করেছেন।’








