ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। রবিবার (২৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য সচিব সাখাওয়াত হোসেন দুলাল।
সংবাদ সম্মেলনে সাখাওয়াত হোসেন দুলাল বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের কারণে ২০০০ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা থেকে প্রায় ৬০ হাজার টু স্ট্রোক বেবিট্যাক্সি তুলে দেওয়া হয়। এর বিপরীতে দুই মহানগরীতে মাত্র ১৩ হাজার করে ছাব্বিশ হাজার পরিবেশবান্ধব সিএনজি চালিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেয় সরকার। ফলে বিপুল সংখ্যক দক্ষ চালক বেকার হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, দুই মহানগরীতে ২০০০ সালের তুলনায় জনসংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।’
সাখাওয়াত হোসেন দুলাল আরও বলেন, ‘বেকার চালকদের আত্মকর্মসংস্থান ও যাত্রী সাধারণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৩ সালের মার্চ মাসে ঢাকা মহানগরীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকদের নামে পাঁচ হাজার এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য চার হাজার অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ যখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। তবে মামলা দায়ের হলেও উক্ত ৯ হাজার সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাছাড়া এ সংক্রান্ত মামলাগুলো সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দেন। ফলে দুই নগরীতে ৯ হাজার সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনও বাধা নেই।’
সংগঠনটির দাবিগুলো হলো—দুই মহানগরীতে ৯ হাজার অটোরিকশার নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। মহানগরীতে সিএনজি অটোরিকশার মালিকদের জমা ৯০০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। দুই মহানগরী এলাকায় রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে চলাচলকারী মোটরসাইকেল সীমিত সংখ্যক নির্ধারণ এবং চালকদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। মহানগরীতে সিএনজি অটোরিকশা পার্কিং ব্যবস্থা না করে বেআইনিভাবে নো-পার্কিং মামলাসহ ভিডিও মামলা, রেকারিং ও ডাম্পিং বন্ধ করতে হবে এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা বা রিটেস্টিং বাতিল করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ মো. শাহ আলম ও চট্টগ্রামের সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








