‘এডিস মশা নিধনে বিদেশ থেকে কার্যকরী ওষুধ আনতে গড়িমসি’র বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হেলাল উদ্দিন হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, এই ওষুধে মশা মারা যাচ্ছে না। দেশে ক্রাইসিস চলছে। এ বিষয়ে আমরা বসে নেই।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।
আদালতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফাইরোজ।
সচিব হাজির হওয়ার পর শুরুতেই আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা আদালতকে বলেন, ‘মশা নিধন নিয়ে মিটিং হয়েছে। সমন্বিতভাবে মশা নিধনের চেষ্টা করছেন বলে তারা (সচিব) জানিয়েছেন।’
এরপর সচিব আদালতকে জানান, শুরু থেকেই আমাদের মন্ত্রণালয় দুই সিটিকে মশা নিধনের জন্য বলেছিল। এরপর থেকে মশা নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলমান রেখেছি। এই ওষুধে মশা মারা যাচ্ছে না। তবুও আমরা মিটিং অব্যাহত রেখেছি। মিটিং করে আরেকটি ওষুধ আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তখন সচিবের কাছে আদালত জানতে চান,‘এ ওষুধ আনার দায়িত্ব কার?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘ওষুধ আনার বিষয়ে আমাদের মন্ত্রণালয় সুপারভাইজ করবে। সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতিও নিয়েছে। এমনকি উত্তর সিটি নমুনাও সংগ্রহ করছে। ওষুধ আনতে লাইসেন্স করতে হবে।’
তখন আদালত জানতে চান, ‘কেন লাইসেন্স লাগবে? আপনারা অনুদান হিসেবে বা সরকার নিজের ক্ষমতা বলে ওষুধ আনবে।’ জবাবে সচিব বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় ওষুধ আনতে গেলে পারে। কিন্তু আমাদের (সিটি করপোরেশন) আনতে গেলে লাইসেন্স দরকার হয়। আমরা গত মাস থেকে সিটিতে মশা নিধনের কাজ শুরু করেছি।’
আদালত প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ঢাকা সিটির বাইরে হলে সেখানে মশা নির্মূল করবে কে?’ জবাবে সচিব বলেন, ‘আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুই সিটির সঙ্গে কথা বলবো। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। তারা আমাদের কাছে জনবল চেয়েছিল, আমরা তাও দিয়েছি।’
আদালত আরও বলেন, ‘এসব ওষুধের কথা আমাদের শোনাবেন না। একে অন্যের বিরুদ্ধে দোষারোপ করলে হবে না। আপনারা বলছেন— সিটি করপোরেশন আর সিটি করপোরেশন বলছে, আপনাদের কথা (ওষুদ আনার বিষয়ে)। আপনারা আনলে সমস্যা কোথায়? আমাদের জানান, সরকার ওষুধ আনবে কিনা।’ এরপর আদালত ওষুধ আনার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চেয়ে সচিবকে সময় দেন।








