সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতন বন্ধে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। একইসঙ্গে তারা ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ঠেকাতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (২ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলানায়তনে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রচার: অবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করুন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘স্বাধীনতার জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের মানুষ জীবন দিয়েছেন, যার স্বীকৃতি ছিল ১৯৭২ সালের সংবিধানে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর এবং তাঁর প্রধান সহযোগী⎯যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর অনন্য সাধারণ সংবিধান প্রণয়ন করেছেন, তাঁদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়; যা এখনও বন্ধ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় বা জাতিগত কারণে এদেশে কেউ লাঞ্ছনা বা নির্যাতনের শিকার হবে⎯এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।’
তিনি দাবি করেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার করে যারা জনজীবন ও রাষ্ট্রের মূল কাঠামো বিপর্যস্ত ও ধ্বংস করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিহত করার জন্য সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সহ-সভাপতি শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








