জনসমুদ্রের নগরী ঢাকা এখন ফাঁকা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৪৪আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৪৯





গণপরিবহনশূন্য রাজধানীর একটি ব্যস্ততম সড়ক পরিবার-পরিজন সঙ্গে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী। ফলে শহরের বেশির ভাগ এলাকায় এখন মানুষের কম উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে বেসরকারি কর্মজীবীদের মধ্যে এখনও যারা শহরে অবস্থান করছেন, তাদের অনেকেই গ্রামের বাড়ি যেতে ছোটাছুটি করছেন কমলাপুর রেলস্টেশন কিংবা বাস টার্মিনালগুলোতে। শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

মালিবাগ থেকে বরিশালের উদ্দেশে মোটরসাইকেলে যাত্রা করেন ওয়াদুদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তানদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। পরিবারের একমাত্র সদস্য হিসেবে আমিই ঢাকায় ছিলাম। পরিবহনের টিকিট না পেয়ে মোটরসাইকেলে রওনা হয়েছি।’
গণপরিবহনশূন্য রাজধানীর একটি ব্যস্ততম সড়ক আরামবাগ থেকে যশোর-খুলনার উদ্দেশে কিছুক্ষণ পরপর ছেড়ে যাচ্ছে যাত্রীবাহী বাস। এমনই এক বাসের যাত্রী খোরশেদ আলম। বেসরকারি একটি কোম্পানিতে সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি করেন। পরিবহনে ওঠার আগে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজও আমাদের অফিস করতে হয়েছে। ঈদের পর বেশি ছুটি কাটাবো বলে ঈদের আগে ছুটি কম নিয়েছি। বাসার সবাই অপেক্ষা করছে। তবে ঈদের সময়ের দুর্ঘটনা নিয়ে শঙ্কিত। এবার আমরা যেন এটি থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।’
ক্রমেই ঢাকা ফাঁকা হতে থাকলেও বসুন্ধরা, মৌচাক, পল্টন, বেইলি রোডসহ মার্কেট প্রধান কয়েকটি এলাকায় মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ঈদের আগের শেষ সময়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত তারা। কথা হয় ক্রেতা মিসেস তামান্না পলির সঙ্গে। তিনি জানান, আজ রাতের গাড়িতে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। তাই শেষ সময়ে সন্তানদের বাকি কেনাকাটা শেষ করছেন।
গণপরিবহনশূন্য রাজধানীর একটি ব্যস্ততম সড়ক মার্কেট ছাড়াও রিকশা, পাবলিক বাস কিংবা নিজস্ব পরিবহনে অনেকেই ছুটছেন মহাখালী, গুলিস্তান, আরামবাগ, সায়েদাবাদ ও গাবতলীসহ বেশ কিছু বাসস্ট্যান্ড ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দিকে। বুক পকেটে টিকেট গুজে রাখা আনোয়ারুল কবির জানালেন, সঙ্গে টিকেট আছে ঠিকই। কিন্তু ট্রেনে ভিড় ঠেলে উঠতে না পারলে টিকেট থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে যেতে হতে পারে। তাই এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই কমলাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি।
ঘরেফেরা কিছু মানুষের চোখে-মুখে দেখা গেছে শঙ্কা আর চিন্তার ছাপ। তেমনই একজন রাহাত হোসেন। তিনি জানান, ঢাকাতে ডেঙ্গুর আতঙ্ক। গায়ে কিছুটা জ্বর বোধ করছি। কিন্তু ডেঙ্গু ধরা পড়েনি। তাই টিকিট কাটা থাকলেও সঠিক তারিখে বাড়ি ফেরা হয়নি। তবু আজ জ্বর নিয়েই ফিরছি। ঈদে কাটা পথে বাড়ি ফেরার ঝক্কির তো আর শেষ নেই!’

পরিবহনশূন্য রাজধানীর একটি ব্যস্ততম সড়ক দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা রাজধানীর দৃশ্যপটও আমূলে পাল্টে যেতে শুরু করে। শহরের যেসব ব্যস্ততম সড়কে ট্রাফিক পুলিশকে ঘাম ঝরাতে হয়, সেসব সড়ক অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে। ফলে খুব বেশি প্রয়োজন পড়ছে না ট্রাফিক পুলিশের।
অন্যদিকে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটতেও সময় লাগছে কম। শাহবাগ থেকে মগবাজার আসার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে রনি মিঞা বলেন, ‘আগে যেখানে শাহবাগ থেকে এখানে (মগবাজার) আসতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দরকার হতো, সেখানে আজ মাত্র ১১ মিনিটে পৌঁছালাম।’
গতকাল (শুক্রবার) ঢাকা ছেড়েছেন অনেকেই। বাকিরাও আজ নিজ নিজ বাড়ি ফিরছেন। তাই জনসমুদ্রের ঢাকা শহর এখন ফাঁকা নগরীতে পরিণত হয়েছে।

 

/বিআই/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম