ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার আন্তরিক নয়। এ বিষয়ে নতুন প্রকল্পের ধান্দায় ডেঙ্গুকে বাজে পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে। যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তাদের এ বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নাগরিকরা। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনের সামনে ‘ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ৭ দফা দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনগণের অবস্থান কর্মসূচি’ শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মানববন্ধনে রাজধানীর জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের সব কিছু থাকে এসি মোড়ানো। জনসচেতনতার অংশ হিসেবে আমরা সরকারকে তাদের কাজ করতে বাধ্য করতে চাই। কারণ সরকার আমাদের টাকায় চলে। সরকার জনগণকে যে সেবা দেওয়ার দরকার সেই সেবা দিচ্ছে না।
মানববন্ধনে উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, আজ আমরা সংখ্যায় অল্প, যেদিন জনগণ অধিকার আদায়ে রাজপথে নামবে, সেদিন তারা চলে যাবে। আমরা সেদিনের অপেক্ষায় থাকবো। আমাদের দায়িত্ব আন্দোলন করা এবং সচেতন হওয়া তা আমরা অবশ্যই করবো।
তিনি আরও বলেন, আজ দেশে ডেঙ্গু, কিন্তু মেয়র চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন। তিনি দেশেও চিকিৎসা নিতে পারতেন। এর দায়ও তাকেই নিতে হবে।
এ সময় তিনি ৭ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকাসহ ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রতি জেলায় ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে বিনামূল্যে রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ করে স্থানীয় মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক বিশেষ কমিটি গঠন। প্রতিটি ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিটে অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ। প্রতিটি কমিটিকে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান। পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে সারা বছর এডিস মশা দমনসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা কার্যক্রম পরিচালনা। দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির বিচার ও শাস্তি এবং মেয়রসহ কর্তাব্যক্তিদের পদত্যাগ। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর শিকার এবং আক্রান্ত পরিবারকে মর্যাদাপূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এরআগে, ‘ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়’ সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের এমন দাবির প্রেক্ষিতে ২৩ এপ্রিল তাকে ওয়াসার পানি দিয়ে তৈরি শরবত খাওয়াতে ওয়াসা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন মিজানুর রহমান ও জুরাইনের বাসিন্দারা।








