বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘যখন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়, তখন জিয়াউর রহমানের নাম পাতায় পাতায় পাওয়া গেছে। কিন্তু তার সৌভাগ্য, তখন তিনি জীবিত ছিলেন না। না হলে এই মামলার তিন নম্বর আসামি হতেন জিয়াউর রহমান।’
বুধবার (২৮ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ।
এসময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের আমলে ফারুক, রশিদকে দেশের বাইরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়। এমন ঘটনাও জানি, তাদের ধরে মাসের পর মাস ক্যান্টনমেন্টে রেখে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাদের ধরে কয়েকবার বিমানে তুলে লিবিয়া পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার করেননি। এতে এটাই প্রমাণ হয় যে, জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশ চায়নি, এখনও চায় না। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, এটা বিএনপির কাছে চক্ষুশুল। এটা তারা সহ্য করতে পারছে না। বিএনপি কখনও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে নাই। তারা ক্ষমতায় এসেছে হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করেছে এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এরপর খুনি মোশতাক ও জিয়ার নিজেদের সাহস ছিল না বলে ষড়যন্ত্র করে জুনিয়র অফিসারদের দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারা এর ফল ভোগ করেছে।’
ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপসের সঞ্চালনায় এবং অ্যাডভোকটে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন প্রমুখ।








