কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পুলিশকে টার্গেট করে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপি সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আনুমানিক রাত সোয়া ৯টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত বস্তুটি একটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ছিল। পুলিশকে টার্গেট করেই এই হামলা ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা।’
বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশেপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত মতামত দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রায় তিন মাস আগে গুলিস্তান পুলিশ বক্সকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। এরপর মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। পল্টন-খামারবাড়িতেও পুলিশ বক্সের কাছেও বিস্ফোরক পেতে রাখা হয়েছিল। এ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, সব হামলায় টার্গেট ছিল পুলিশ।’
তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে অগ্নি সন্ত্রাসীরা দেশজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল। এরপর বিদেশি নাগরিক তাবেলা সিজারকে হত্যা করা হয়। ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। এরপর পুলিশ দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই কারণে পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। এসব হামলার ঘটনা ঘটিয়ে দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করা, অথবা পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া সম্ভব নয়।’
দেশকে অকার্যকর করতে না পারা, পাকিস্তান-আফগানিস্তান বা সিরিয়ার মতো অবস্থা করতে না পারার কারণে একটি গোষ্ঠী পুলিশকে টার্গেট করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ডিএমপি কমিশনার।
গুলিস্তান-মালিবাগে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে কোনও অগ্রগতি আছে কিনা, জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রত্যেকটি ঘটনার বিষয়েই আমাদের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা নানাভাবে খতিয়ে দেখছেন। একটির সঙ্গে অন্যটির কী সম্পর্ক রয়েছে, সেটিও দেখছেন তারা। গুলিস্তান ও মালিবাগের ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে আমাদের ভালো অগ্রগতি রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে ও আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গুলিস্তানের বোমাটিতে টাইমার সেট করা ছিল। মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে বোমা পেতে রাখা হয়েছিল এবং সেটি রিমোট কন্ট্রোলযুক্ত ছিল। সেটির উপযুক্ত প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এদিকে, পল্টন ও খামারবাড়ি এলাকায় পুলিশ বক্সে যে দুটি বোমা ছিল, সেগুলো পেতে রাখা ছিল।’
এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। ঘটনা ঘটার পরপরই আইএসের দায় স্বীকার করা কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনও সংগঠনের যোগাযোগ আদৌ আছে কিনা, নাকি অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এসব প্রচারণা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এজন্য আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক চক্রান্ত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।








