বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা এখন ভর্তি যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। এ পরীক্ষা নিয়ে কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কাজ করে না, তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন অভিভাবকরা। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করার পর অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও যেন বেড়ে যায়। সন্তানের ভালো পরীক্ষার জন্য চলে অভিভাবকদের প্রার্থনা। আর পরীক্ষা শেষে সন্তানরা হল থেকে বের হলেই অভিভাবকদের সেই চিরাচরিত প্রশ্ন ‘পরীক্ষা কেমন হয়েছে’?
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা শেষে অপেক্ষায় থাকা অভিভাবকদের এমন প্রশ্নের মুখেই পড়তে হয় পরীক্ষার্থীদের।
দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হন তানজিনা আক্তার। এরআগে বাইরে তার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন মা ফরিদা বেগম। মেয়েকে নিয়ে এসেছেন চট্টগ্রাম থেকে। কখন তার মেয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের হবেন, আর কখন তাকে জিজ্ঞেস করবেন ‘মা তোর পরীক্ষা কেমন হয়েছে’ এমন অপেক্ষা আর আকুতি ছিল তার চোখে-মুখে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে অপেক্ষারত ফরিদা বেগমের কাছে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘মেয়ে যখন হলে ঢুকে তখন থেকেই অপেক্ষা। অনেক চিন্তার মধ্যে ছিলাম, যখন জানতে পারলাম মেয়ের পরীক্ষা ভালো হয়েছে তখন মনে শান্তি পেলাম। অনেক ভালো পড়াশোনা করেছে সে, রেজাল্টও ভালো। আমরা তাকে নিয়ে আশাবাদী। মেয়েকে ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন। মেয়েরও খুব ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।’
সন্তান বা পরিচিত পরীক্ষার্থীকে হলের বাইরে পেয়ে অন্য অভিভাবকদেরও প্রথম প্রশ্ন ছিল এমনই। আবার অভিভাবকদের পরীক্ষার অবস্থা জানাতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও তাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
ময়মনসিংহ থেকে মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে এসেছেন নাসরিন নাহার। পরীক্ষা শেষে হল থেকে বেরিয়েই তিনি মাকে খুঁজছিলেন। পরীক্ষা কেমন হলো এ সংবাদ মাকে জানাতে তার যত তাড়া। অবশেষে ডাকসু ভবনের সামনে মাকে পেয়ে যান তিনি। মাও অপেক্ষায় রয়েছেন কখন জানতে পারবেন মেয়ের পরীক্ষার অবস্থা। মায়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর পরীক্ষা কেমন দিয়েছে তা বলতে আর দেরি করেননি নাসরিন। পরীক্ষা ভালো দিয়েছেন, এমন সংবাদ যখন মাকে জানালেন নাসরিন, তখন মায়ের শুকনো মুখেও হাসির রেখা ফুটে ওঠে।
পরীক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাতও অন্যদের মতো পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে অপেক্ষারত মাকে ভালো পরীক্ষা দেওয়ার কথা জানান। এতে মায়ের মুখ থেকেও উদ্বেগের রেখা মুছে হাসি দেখা যায়।
জানতে চাইলে ইয়াছিনের মা বলেন, ‘ছেলেকে জিজ্ঞেস করলাম বাবা পরীক্ষা কেমন হয়েছে, সে তো বললো ভালো পরীক্ষা দিয়েছে৷ বাকিটা আল্লাহর হাতে।'
এবার ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ১২৫০টি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজার ৫৮ জন। সে হিসেবে প্রতি আসনে লড়েছেন ২৩ জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মোট ৫৬টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে, অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে৷ এখন পর্যন্ত কোনোধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রক্টরিয়াল বডি, মোবাইলটিম, বিএনসিসির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।’








