‘দারোয়ান নয়, আমি ছিলাম কবি নজরুলের সেবক’

রাফসান জানি
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:২০আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:১৯

মো. মুজিবর রহমান ১৯৭২ সাল থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার ‘সেবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জামালপুরের মো. মুজিবর রহমান। ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে দেখভালের জন্য মো. মুজিবর রহমানকে ‘সেবক’ হিসেবে নিয়োগ দেন।
কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যুর অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও তার ‘সেবক’   হিসেবে পরিচয় পাননি মুজিবর রহমান। বিভিন্ন বই ও পত্র পত্রিকায় তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে দারোয়ান হিসেবে। জীবন সায়াহ্নে এসে এই মানুষটির অভিমানী বক্তব্য, এই পরিচয়ে তিনি পরিচিত হতে চান না। কারণ, তাকে কাজী নজরুল ইসলামের সেবক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু। তিনি কবি নজরুলের ‘সেবক’ পরিচয় নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে চান।
পঁয়ষট্টি বছর বয়সী মুজিবর রহমান বাংলা ট্রিবিউন এর সঙ্গে আলাপকালে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমার পরিচয় দেওয়া হয়েছে দারোয়ান। দারোয়ান নয়, আমি ছিলাম কবি নজরুলের সেবক। কবির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সেবা করার জন্য আমাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।’
কবি নজরুল ইসলামের সেবক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর দ্বারা নিয়োগ পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গরু রাখার কাজ করতেন সোনা মিয়া নামে একজন। তার মাধ্যমে ৩২ নম্বরের বাড়িতে এসেছিলাম আমি। সোনা মিয়া বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, আমাকে একটা কাজ দেওয়ার জন্য। তখন বঙ্গবন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুই পায়খানা-প্রস্রাব পরিষ্কার করতে পারবি?’ আমি বলেছিলাম, ‘পারবো’। এরপরই ১৯৭২ সালে তিনি আমাকে সেবক হিসেবে কবি নজরুল ইসলামের সার্বক্ষণিক সেবা করার জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন। আমার বেতন ছিল ৫০ টাকা।’’

১৯৭৫ সালে ২৩ জুলাই কবির অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাকে ধানমন্ডি ১৮ নম্বর সড়কে ‘কবি ভবন’ থেকে নিয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও কবির সেবায় নিয়োজিত ছিলেন মুজিবর রহমান। তিনি বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর শুরুতে আমাকে কবির সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আমাকে থাকতে দেওয়া হয়। কারণ, আমি কবির ইশারা বুঝতে পারতাম। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে পায়খানা প্রস্রাবের সময় কবির ইশারা আমি বুঝতাম।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট কবি নজরুল মারা যাওয়ার পর নজরুল পরিবারের সদস্যরা সেবক মুজিবর রহমানকে আর তাদের সঙ্গে রাখেননি। বাধ্য হয়ে চাকরির জন্য ছুটেন বিভিন্ন জনের কাছে। ১৯৮২ সালে গণপূর্ত বিভাগে গার্ড হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। আগামী বছর তার চাকরির মেয়াদ শেষ হবে।

/আরজে/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম