পাবলিক বাসে,নিজের ঘরে বা অফিসে— নানা জায়গায় সিগারেট খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সুগন্ধিযুক্ত ই-সিগারেট দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। এমনকি গ্রাহকরা দাবি করতে থাকেন— এটিতে কোনও নিকোটিন নেই এবং সিগারেটের মতো প্যাসিভ স্মোকারদের কোনও ক্ষতি করে না। তাদের এ দাবি ভুল প্রমাণ করে গবেষণার তথ্য বলছে, ই-সিগারেটে আছে জীবাণুনাশক বিষাক্ত ফরমালডিহাইড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরফলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি, হতে পারে মরণব্যাধি ক্যানসার।
বর্ণহীন দুর্গন্ধযুক্ত ফরমালডিহাইড একটি বিষাক্ত গ্যাস। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় ফরমালিন নামে পরিচিত। জীবাণুনাশক হিসেবে, রঙ তৈরিতে, দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য গবেষণাগারে এবং পলিমার তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
ইলেকট্রনিক সিগারেটের ভেতরে থাকে নিকোটিনের দ্রবণ— যা ব্যাটারির মাধ্যমে গরম হয়। এর ফলে ধোঁয়া তৈরি হয়। তামাকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, বর্তমানে তিন থেকে চার শতাংশ ধূমপায়ী এই সিগারেট ব্যবহার করে থাকে। এখনই এটি নিষিদ্ধ করার যথাযথ সময় বলে তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে, গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইলেক্ট্রনিক সিগারেটসহ মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছাড়া যায়— এমন সব তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি বন্ধ করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ সরকার৷ সম্প্রতি পাশের দেশ ভারতে ই-সিগারেট বিক্রি, উৎপাদন, আমদানি এবং বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কেন বন্ধ করা হবে বলতে গিয়ে মন্ত্রণালয় এর ক্ষতির প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, যারা ই-সিগারেট সেবন করছেন, তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে দাবি করা হয়েছে, ই-সিগারেটে আছে জীবাণুনাশক ফরমালডিহাইড, যেটি ক্যানসার তৈরির উপাদান। বৈশ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের সব তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি যত দ্রুত সম্ভব নিষিদ্ধ করতে শীর্ষ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা বসবো।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি এমনই ক্ষতিকর যে, লিভার ক্যানসার ঘটাতে পারে।’ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের শরীরে বিভিন্ন কিছুর মধ্য দিয়ে ফরমালডিহাইড প্রবেশ করতে পারে এবং শরীরের প্রক্রিয়ায় একটা মাত্রা পর্ন্ত বেরিয়েও যায়। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত প্রবেশ করলে তা লিভারে আটকা পড়ে এবং লিভার নষ্ট হয়ে যায়।’ এর মাধ্যমে নিউরনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে উল্লেখ করে ড. মুহিত আরও বলেন, ‘যখন ই-সিগারেটের মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত মাত্রার এই জিনিস ঢুকছে, তখন কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও থাকে।’
এটি মস্তিষ্কে ধূমপানের অনুভূতির সৃষ্টি করে,বিনা বাধায় সব জায়গায় সেবন করা যায় বলে ব্যবহারও বাড়ছে উল্লেখ করে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আমরাই বলেছি— এটি নিষিদ্ধ করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশকিছু দেশ এটাকে সামনের দিনের মহামারী হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই পণ্যের প্রধান টার্গেট শিক্ষার্থীরা। আমাদের দেশে নির্ভরতার মাত্রা এখনও মাত্রাতিরিক্ত নয়, তার আগেই যদি উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে কাজটি সহজ হবে।’








